বিয়ের ২০ দিন পরেও সহবাস করতে না দেয়ায় স্ত্রীকে হত্যা!

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২০ ১২:৩১ অপরাহ্ণ

২০ দিন পার হয়ে গেলেও স্বামীকে কাছে আসতে দেয়নি স্ত্রী। শতচেষ্টা করেও স্ত্রীর কাছাকাছি যেতে না পেরে তখনই মিমকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় শামীম। পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মিমকে হত্যা করেছে বলে পুলিশ ও আদালতকে জানিয়েছে শামীম। সেই সাথে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে শামীম।

শামীম জানান, বিয়ের পর প্রায় ২০ দিন কেটে গেলেও একবারও মিমের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেননি। যতবারই চেষ্টা করেছে ততবারই নানা বাহানা ও বাধা দিয়েছে মিম। ৯ নভেম্বর দুপুরে গোসলে যেতে শামীমকে তাড়া দেয় মিম। গোসল শেষে বাসায় ফিরে মিমকে খুঁজে পায়নি শামীম। এমনকি ফোনও বন্ধ। পরবর্তীতে জানতে পারে প্রেমিক শান্তর সঙ্গে পালিয়েছে মিম।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডেমরা স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো একই এলাকার শান্তর। একই এলাকার বাসিন্দা হলেও পরিচয় ও সম্পর্কের সূত্রপাত হয় ফেসবুকের মাধ্যমে। বিষয়টি মিমের পরিবার ও স্বজনদের নজরে এলে নানাভাবে বাধা দেয়া হয়। তবুও এই প্রেম থেকে ফেরানো সম্ভব হয়নি মিমকে।

মিমের সমবয়সী শান্ত একটি কসমেটিকস দোকানের কর্মচারী। প্রেম থেকে ফেরাতেই বিয়ের আয়োজন করা হয় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চাঁনপাড়ার বাসিন্দা মোটরমেকানিক শামীমের সঙ্গে। ২৪ অক্টোবর বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত ছিল মিম। এর মধ্যেই স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে গিয়ে ফোনে ডেকে আনে শান্তকে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত জানায়, তাকে ডেকে নিয়ে মিম বলেছিল, ‘তুমি যদি আমাকে না নিয়ে যাও, আমি এই মুহূর্তে আত্মহত্যা করবো।’ তারপর ডেমরায় বন্ধুর বোনের বাসায় মিমকে রেখেছিল শান্ত। ওই বাসা থেকেই বাবা হবি কাজীকে ফোনে মিম জানিয়েছিল, সে শান্তর সঙ্গে রয়েছে। কোনোভাবেই শান্ত ছাড়া অন্য কারও সংসার করবে না সে। বাবা হবি কাজী মেয়েকে ফিরে যেতে অনুনয় করেন।

একপর্যায়ে বলেন, ফিরে এলে শামীমের সঙ্গে ডিভোর্স করিয়ে শান্তর সঙ্গেই বিয়ে দেয়া হবে। এই প্রতিশ্রুতিতেই ডেমরা বাঁশেরপুলের তাজমহল রোডে বাবার বাসায় ফিরে যায় মিম।

এদিকে শামীম ও মিমের পরিবারের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এই এক সপ্তাহ শামীমের সঙ্গে সংসার করতে মিমকে বুঝানোর চেষ্টা করবে তার মা-বাবা। পরদিনই ঘটে ঘটনা। মিমের সঙ্গে কথা বলার জন্য ডেমরা ওই বাসায় যায় শামীম। তখন দুপুর ১২টা। দোতলা বাসার একটি কক্ষে মিমের সঙ্গে কথা বলছিল শামীম। বিয়ের পর এই রুমে থেকেছে তারা কয়েক রাত।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় মিমকে বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সে। তার ধারণা ছিলো, কোনোভাবে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারলেই শান্তকে ভুলে তার প্রতি আকৃষ্ট হবে মিম। তাই জোর করতে থাকে। অর্ধ বিবস্ত্র করে ফেললেও মিমের বাধার কাছে পেরে ওঠেনি শামীম। একপর্যায়ে মিম খাট থেকে উঠে রুম থেকে বের হতে চেষ্টা করে। পরে খাটের পাশের একটি মোড়ায় বসে মিমের হাত-পায়ে ধরে শান্তকে ভুলে যেতে অনুনয় করে। মিম এক কথায় জানিয়ে দেয়, সম্ভব না।

একইভাবে শামীমের সঙ্গে সংসার করাও সম্ভব না। এ সময় শামীম বলতে থাকে, আমি না পেলে তোকে আর কেউ পাবে না। কেউ না। তারপর মিমের ওড়না দিয়েই তার গলা চেপে ধরে। বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করে মিম। শামীম শক্ত করে ওড়নায় টান দেয়। মিমের নাক, কান দিয়ে রক্ত বের হয়। চোখ দু’টিবড় বড় হয়ে যায়। নিথর হয়ে যায় তার শরীর। মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত শ্বশুরের বাসা থেকে বের হয়ে যায় শামীম। পরে ঘরে ঢুকেই মিমের রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পান তার মা। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। মিমের পিতা হবি কাজী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরবর্তীতে ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শামীমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। মুগদা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় শামীমকে।