বিশ্বজুড়ে আত’ঙ্ক: আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট আবারও বন্ধ হতে পারে!

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২০ ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও বিজ্ঞানীরা দেশটিতে করোনাভাইরাসের একটি নতুন রূপ শনাক্তের কথা ঘোষণা করে এ ধরনটি ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রামক বলে জানিয়েছেন। এর পর থেকেই ব্রিটেন বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

একের পর এক নতুন প্রজাতির করোনাভাইরাস পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে আত’ঙ্ক শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাসের অত্যন্ত সংক্রামক একটি ধরন শনাক্ত হওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। এসব দেশগুলোর সঙ্গে যোগ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও এশীয় দেশগুলো।

আন্তর্জাতিক রুটের সব ফ্লাইট চলাচল আবারও বন্ধ হতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে চিন্তা-ভাবনা চলছে। শীঘ্রই আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল ফ্লাইট বন্ধ হবে কী না, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সোমবার (২১ ডিসেম্বর) বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেন মারাত্মক আকার ধারণ না করে, সেজন্য এই মুহূর্তে আন্তজার্তিক রুটের সব ফ্লাইট চলাচল ফের বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রথম দফায় সংক্রমণকালে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের মাধ্যমেই দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়। পরবর্তীতে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তজার্তিক রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ করার ব্যাপারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চ মহলে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে চলতি বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত দেশে করোনায় মোট মৃত্যু সাত হাজার ৩১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৫৭৫ জন (৭৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) ও নারী ১ হাজার ৭৩৭ জন (২৩ দশমিক শূন্য ৭৬ শতাংশ)।

সারাদেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩০ লাখ ৯১ হাজার ৩৪৯টি। এ সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭০ জন। দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ দুই হাজার ১৮৩ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন চার লাখ ৩৯ হাজার ৬৯৪ জন।