৫০টিরও বেশি খু’ন, কুমিরের মু’খে ফে’লে দে’হ লো’পাট ক’রতেন এই ডাক্তার

বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২০ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ

কুমিরের মু’খে ফে’লে দে’হ লো’পাট ক’রতেন এই ডাক্তার-কতগু’লো খু’ন ক’রেছেন গু’নতে গিয়ে বার বার গু’লিয়ে ফে’লছিলেন আ’য়ুর্বেদিক চিকিৎসক দেবেন্দ্র শর্মা। বার বার ৫০-এ গিয়েই থেমে যা’চ্ছিলেন তিনি। অনেক মনে করার চেষ্টা করেও শে’ষমেশ হাল ছেড়ে দিয়ে পু’লিশকে জানান, এর পরে আর কতগু’লো খু’ন করেছেন সেই সংখ্যাটাই নাকি মনে করতে পারছেন না!

বহু খু’নে অ’ভিযুক্ত সেই দেবেন্দ্রকেই বুধবার দিল্লির বাপরোলা থেকে গ্রে’ফতার করেছে পু’লিশ। তাদের ধারণা, ১০০টিরও বেশি খু’ন করেছেন দেবেন্দ্র। জ’য়পুরের সেন্ট্রাল জে’লে ১৬ বছর কারা’দ’ণ্ডের পর এ বছরেরে জানুয়ারিতে ২০ দিনের জন্য পেরোলে ছাড়া পেয়েছিলেন উ’ত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের বাসিন্দা দেবেন্দ্র। দিল্লি পু’লিশ জানিয়েছে, পেরোলের সময় অতিক্রা’ন্ত হয়ে গেলেও সেন্ট্রাল জে’লে না ফিরে নিজেরই গ্রামের বাড়িতে থাকছিলেন দেবেন্দ্র।

দিল্লির ডেপুটি পু’লিশ কমিশনার (ক্রা’ইম) রাকেশ পাওয়েরিয়া বলেন, “মা’র্চ পর্যন্ত গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন দেবেন্দ্র। তার পর সেখান থেকে দিল্লির মোহন গার্ডেন এলাকায় এক পরিচিতের বাড়ি গিয়ে ওঠেন। পরে সেখান থেকে বাপরোলা চলে যান।” পাওয়েরিয়া আরও জানিয়েছেন, বাপরোলাতে দূর স’ম্পর্কের এক আ’ত্মীয় এক বিধবাকে বিয়ে করে নতুন ভাবে জীবন শুরু করেছিলেন। যাঁকে বিয়ে করেছেন, সেই মহিলা দেবেন্দ্রর অ’পরাধ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। পু’লিশ জানিয়েছে, এই বাপরোলাতেই থা’কাকালীন জমি-বাড়ির দালালি শুরু করেন।

সম্প্রতি কনট প্লেসে মা’র্শাল হাউস বিক্রির জন্য জয়পুরে এক গ্রাহকের স’ঙ্গে চু’ক্তিও হয়ে গিয়েছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই গো’পন সূত্রে পু’লিশ দেবেন্দ্রর ঠিকানা পায়। বুধবারই সেখান থেকে তাঁকে গ্রে’ফতার করে দিল্লি পু’লিশের অ’পরাধ দমন শাখা। চিকিৎসক থেকে কী ভাবে এক জন পেশাদার খু’নি হয়ে উঠলেন, দেবেন্দ্রর সেই কাহিনি তাবড় ক্রা’ইম থ্রিলারকেও হার মানাবে। বিহারের সিওয়ান থেকে ডাক্তারি পাশ করে সোজা রাজস্থানের জয়পুরে চলে যান দেবেন্দ্র। সালটা ১৯৮৪।

সেখানে গিয়ে ক্লিনিক খোলেন তিনি। ১৯৯২-তে গ্যাসের ডিলার’শিপ নেওয়ার জন্য ১১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু সে ব্যবসায় চোট খান। এর পরই চরম আর্থিক সঙ্কট নেমে আসে তাঁর জীবনে। পুলিশ সূত্রে খবর, টাকা উপার্জনের জন্য এর পরই অ’পরাধের রাস্তা বেছে নেন দেবেন্দ্র। ১৯৯৪-তে আন্তঃরাজ্য কিডনি পাচারের কাজে নামেন। এই চক্রটি পরিচালনা ‘হত মূলত জয়পুর, বল্লভগড় এবং গু’রুগ্রাম থেকে।

১৯৯৪-২০০৮ পর্যন্ত ১২৫ জনেরও বেশি মানুষের কিডনি অ’স্ত্রোপচার করে পাচার করেছেন। প্রতিটি কাজের জন্য ৫-৭ লক্ষ টাকা পেতেন দেবেন্দ্র। এই কাজের পাশাপাশি ১৯৯৫-তে আলিগড়ের ছড়া গ্রামে ভু’য়ো গ্যাস এজেন্সি খোলেন তিনি। ২০০১-এ উত্তরপ্রদেশেরই আমর’োহাতে আরও একটি ভুয়ো গ্যাস এজেন্সি খোলেন। সেই অ’ভিযোগে গ্রে’ফতারও হয়েছিলেন দেবেন্দ্র। সেই এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ফের জয়পুরে গিয়ে ক্লিনিক শুরু করেন। সালটা ২০০৩।

পু’লিশ জানিয়েছে, এক দিকে ক্লিনিক চালনো, পাশাপাশি কিডনি পাচারের কাজ করে বেশ আর্থিক দিক থেকে বেশ ফুলে-ফেঁ’পে উঠেছিলেন দেবেন্দ্র। এতেও ক্ষান্ত হননি। পরিকল্পিত ভাবে অ’পহরণ এবং খু’ন করার কাজে নেমে পড়েন। ইতিমধ্যেই তাঁকে এ কাজে সাহায্য করার জন্য বেশ কয়েক জন স’ঙ্গী জুটিয়ে ফেলেছিলেন দেবেন্দ্র। পু’লিশ জানিয়েছে, দেবেন্দ্রর খু’নের ঠিকানা ছিল আলিগড়। স’ঙ্গীদের নিয়ে ট্যাক্সি ভাড়া করে আলিগড়ে নিয়ে আসতেন। তার পর নির্জন জায়গায় চালকদের খু’ন করে তাঁদের দে’হ লোপাট করার জন্য কাসগঞ্জের হাজরা খালে ফেলে দিতেন কুমিরের খাদ্য হিসেবে।

তার পর সেই ট্যাক্সিগু’লোকে কাসগঞ্জেরই কোনও গ্রাহকের কাছে ২০-২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিতেন। শুধু তাই নয়, এলপিজি গ্যাসবোঝাই লরি ছিন’তাই করে সেই গ্যাসগু’লো নিজের এজেন্সি থেকে বিক্রি করতেন। লরিগু’লোকে নির্জন জায়গায় ফেলে আসতেন দেবেন্দ্র ও তাঁর স’ঙ্গীরা। পু’লিশ আরও জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি অ’পরাধের জন্য গ্রে’ফতারও হয়েছিলেন দেবেন্দ্র। পরে ছাড়াও পেয়ে যান। কিন্তু ২০০৪-এ কিডনি পাচারের অ’ভিযোগে জয়পুরের বেশ কয়েক জন চিকিৎসকের স’ঙ্গে দেবেন্দ্রও গ্রে’ফতার হন। বুধবার গ্রে’ফতার হওয়ার পর পুরো কাহিনি সামনে আসে। পু’লিশের দাবি, জেরায় দেবেন্দ্র তাদের জানিয়েছে, ২০০২-০৪ সালের মধ্যে ৫০টিরও বেশি খু’ন করেছেন, কিন্তু সঠিক সংখ্যাটা মনে করতে পারছেন না।anandabazar