৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হ’ত্যায় রাজি হন বাবা, এরপর ই’ট দিয়ে মা’থা থেঁ’তলে…

সোমবার, মার্চ ৯, ২০২০ ১২:৫০ অপরাহ্ণ

৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে মেয়েকে হ’ত্যায় রাজি হন বাবা-প্রতিপক্ষকে ফাঁ’সাতে ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে নিজের শি’শুকন্যা ইলমাকে হ’ত্যায় সহায়তা করেন বাবা আব্দুল মোতালেব।শুধু তাই নয়, পরিকল্পনা মোতাবেক বাড়ির পার্শ্ববর্তী ধা’নক্ষেতে ডেকে নিয়ে ই’ট দিয়ে মা’থা থেঁ’তলে

ই’লমাকে নৃ’শংসভাবে হ’ত্যা করেন ইলমা’র দুলাভাই বা’বুল ও ফু’ফাতো ভাই মাসুমের নে’তৃত্বে সাত-আটজন। এ সময় বাবা মোতালেব নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সহায়তা করেন। যদিও প্রতিপক্ষের বি’রুদ্ধে হ’ত্যা মা’মলা করে চুক্তির ৩০ টাকাও পাননি ঘা’তক বাবা। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নরসিংদীর

চাঞ্চ’ল্যকর ইলমা (১১) হ’ত্যাকা’ণ্ডের র’হস্য উদঘাটন এবং জ’ড়িতের অ’ভিযোগে পাঁচজনকে গ্রে’ফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পু’লিশের অ’প’রাধ ত’দন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে সিআইডির সি`রিয়াস ক্রা’ইম ইউনিটের বিশেষ পু’লিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত

আরার তত্ত্বাবধানে একটি টিম নরসিংদী সদর থা*না এলাকা থেকে বাবা আব্দুল মোতালেব, মঙ্গলী বেগম, ফুফাতো ভাই মাসুম মিয়া, মো. বাতেন ও গ্রুপ লিডার শাহ’জাহান ভূঁইয়া। গ্রে’ফতার আ’সামি মাসুম মিয়া আ’দালতে ইতোমধ্যে স্বী’কারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর

ইলমা হ’ত্যা মা’মলার র’হস্য উদঘাটন স’ম্পর্কে জানাতে সোমবার দুপুর দেড়টায় সিআইডি সদর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রা’ইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইলমা হ’ত্যাকা’ণ্ডে জড়িত প্রকৃত আ’সামিদের শ*নাক্ত

ও গ্রে’ফতার করতে থা*না পু’লিশ ব্যর্থ হলে ত’দন্ত শুরু করে সিআইডি। সিআইডির সি`রিয়াস ক্রা’ইম ইউনিট কর্তৃক নি’হত ইলমা’র ফুফাতো ভাই মাসুমকে গ্রে’ফতারের মধ্য দিয়ে এ চা’ঞ্চল্যকর হ’ত্যাকা’ণ্ডের র’হস্য উন্মোচিত হয়। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ২৮ মা’র্চ ১১ বছর

বয়সী ইলমা’র ম’রদেহ নরসিংদী থা*নাধীন বাহেরচর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে পাওয়া যায়। ইলমা বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ত’দন্তে জানা যায়, নরসিংদী থা*নাধীন বাহেরচর নামক একটি দু’র্গম এলাকায় শাহ’জাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর

নেতৃত্বে দুটি দলের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বি’স্তার নিয়ে দ্ব’ন্দ্ব বি’রাজমান ছিল। শাহ’জাহান গ্রু’পের সদস্য ইলমা’র ফুফাতো ভাই মাসুমের সঙ্গে বাচ্চু পক্ষের সদস্য তোফাজ্জলের মেয়ে তা’নিয়ার স’ঙ্গে প্রে’মের স’ম্পর্ক ছিল। বি’য়ে করার উদ্দেশ্যে মাসুম তানিয়াকে তার ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি নিয়ে আসে।

পরে তানিয়ার বাবা দলবল নিয়ে দে’শীয় অ’স্ত্র নিয়ে হা’মলা করে মে’য়েকে উ’দ্ধার করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে মাসুম, মাসুমের ভাই খসরু ও ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বি’রুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থা*নায় একটি অ’পহরণ মা’মলা করেন।

এরপর মূলত দ্ব’ন্দ্ব চ’রমে পৌঁ’ছে। বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করার লক্ষ্যে শাহ’জাহানের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১ মা’র্চ রাতে মাসুমসহ ১৩ জন বৈঠক করে। প্র’তিশোধ নিতে একটি হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘ’টিয়ে বাচ্চু গ্রু’পের বি’রুদ্ধে মা’মলা করার বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রুপ লিডার

শাহ’জাহান মোতালেবকে তার মে’য়ে ইলমাকে টাকার বিনিময়ে হ’ত্যা করার প্র’স্তাব করে। মোতালেব মাত্র ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে মে’য়েকে হ’ত্যায় রাজি হয়। ২০১৫ সালের ২৭ মা’র্চ সন্ধ্যায় ইলমা’র দু’লাভাই ও অন্যরা মিলে তাকে টাকা দেয় বাজার করার জন্য। টাকা পেয়ে

ইলমা বাড়ির পাশে নুরার দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফেরার পথে ইলমা’র দুলাভাই বাবুল ও ফুফাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত-আটজন মিলে পূ’র্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী একটি ধানক্ষেতে নিয়ে যায়। ই’ট দিয়ে মা’থা থেঁতলে ইলমাকে নৃ’শংসভাবে হ’ত্যা করে। এ সময় ইলমা’র বাবা পাশেই অবস্থান করছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম সি’আইডিকে জানায়, ইলমা’র বাবা এ সময় ‘আগে টাকা ও পরে কাম সারো’ বলে টাকা দাবি করেছিলেন। ইলমা হ’ত্যাকা’ণ্ডের ঘ’টনায় প্রকৃত আ’সামিদের বাদ দিয়ে ইলমা’র বাবা মোতালেব বা’দী হয়ে বাচ্চু গ্রু’পের বি’লকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অ’জ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বি’রুদ্ধে নরসিংদী সদর থা*নায় ওই বছরের ৩১ মা’র্চ হ’ত্যা মা’মলা করেন। এতো কিছুর পরও প্রকৃতপক্ষে হ’ত্যাকা’ণ্ডের জন্য চুক্তিকৃত ৩০ লাখ টাকা ইলমা’র বাবা পাননি বলে জানান মাসুদ।jagonews24