স্যার ‘আমা’র লা’শটা এসে নিয়ে যাবেন’- ওসিকে ফোন করে যুবকের আ’ত্মহ’ত্যা

শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২০ ৫:৫১ অপরাহ্ণ

ওসিকে ফোন করে যুবকের আ’ত্মহ’ত্যা-‘স্যার আম’রা গরীব মানুষ, আমাদের থাকার মতো জায়গা নেই, তাই আমাদের বেঁচে থাকারও অধিকার নেই। সকালে এসে আমা’র লা’শটা নিয়ে যাবেন।’ রাত ১২টার দিকে ওসিকে ফোনে এ কথা বলে নিজের লেদ মেশিনের ঘরে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে

আত্মহ’ত্যা করেন পাপন সাহা (২৪) নামে এক যুবক। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এ ঘটনা ঘটে। পাপন সাহা গোয়ালন্দ রেলস্টেশন এলাকার মৃ’ত অশোক সাহার ছে’লে। জানা গেছে, গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশনের পাশে ও গোয়ালন্দ ঘাট থা’নার

সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন রেলের জায়গায় দোকানসহ বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করেন পাপন সাহা ও তার পরিবার। সম্প্রতি থা’নার সীমানা প্রাচীরের উপরে ইটের দেয়াল তুলে বসতঘর সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেন পাপন সাহা। বিষয়টি থা’না পু’লিশের নজরে আসলে পু’লিশ থা’নার

বাউন্ডারির বাইরে কাজ করতে বলে। কিন্তু পাপন সাহা থা’নার দেয়াল ঘেঁষে কাজ করতে থাকলে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থা’নার ওসি আশিকুর রহমান তাকে থা’নায় ডেকে আনেন। এরপর পাপনকে থা’না হাজতে আ’ট’কে রেখে একটি অ’ভিযানে বের হন।

ফিরে এসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে থা’নার সীমানা প্রচীর থেকে এক ফুট দূরে ঘর নির্মাণের মুচলেকা নিয়ে পাপনকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ দিকে ওই দিন রাত ১২টার দিকে পাপন ওসিকে ফোন করে বলেন, স্যার আম’রা গরীব মানুষ, আমাদের থাকার মতো জায়গা নেই, তাই আমাদের বেঁচে থাকারও

অধিকার নেই। সকালে এসে আমা’র লা’শটা নিয়ে যাবেন। এরপর রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি রেলস্টেশনে তার লেদ মেশিনের ঘরে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আত্মহ’ত্যা করেন। এ দিকে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, একদিকে থা’নার বাউন্ডারি থেকে দূরে ঘর নির্মাণে পু’লিশের চাপ

অ’পরদিকে ওইভাবেই ঘর নির্মাণের চাপ পরিবারের। এতে হতাশ হয়ে পাপন সাহা আত্মহ’ত্যার পথ বেঁছে নেন। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর কোমল কুমা’র সাহা বলেন, পাপন সাহাকে থা’না হেফাজতে রাখার খবর শুনে বৃহস্পতিবার দুপুরেই আমি থা’নায় যাই। কিন্তু থা’নায় ওসিকে না

পেয়ে ফোনে কথা বলি। এ সময় তিনি বলেন, আমি এসে পাপনের সঙ্গে কথা বলে ছেড়ে দিব। পরবর্তীকালে বিকালে আমা’র ছে’লেকে পাঠালে ওসি মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন। তিনি আরও বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে পাপন আমাকে ফোনে জানান, ওসি থা’নার বাউন্ডারি ওয়াল থেকে

এক ফুট দূরে ঘর তুলতে বলেছেন। এ সময় আমি তাকে বলি, ওসি সাহেবের সঙ্গে আমি কথা বলব, তুমি ৬ ইঞ্চি দূরে ঘর নির্মাণ কর। এরপর রাতে পাপনের আত্মহ’ত্যার সংবাদ শুনি। এ সময় তিনি নিশ্চিত করে বলেন, আমি ও আমা’র ছে’লে সার্বক্ষণিক পাপনের খোঁজ-খবর রেখেছি, পু’লিশ পাপনের সঙ্গে কোনো প্রকার দুর্ব্যবহার করেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজে’লা যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ মোল্লা জানান, পাপন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আমাকে জানায়, থা’না থেকে তাদের ঘর নির্মাণ কাজে বাঁ’ধা দিচ্ছে। আমি সরেজমিন এসে দেখতে পাই, থা’নার বাউন্ডারি ওয়ালের সঙ্গে তারা ঘরের দেয়াল তুলেছে এবং উপরের টিন

অনেকখানি থা’নার সীমানার মধ্যে ঢুকে গেছে। এ সময় আমি তাদের পরাম’র্শ দেই, থা’নার বাউন্ডারির ভেতর থেকে স্থাপনা সরিয়ে আনার জন্য। এ দিকে পাপন সাহার মা পুষ্প রানী সাহা বলেন, পু’লিশ আমা’র ছে’লেকে থা’নায় আ’ট’কে রাখায় অ’ভিমান করে সে আত্মহ’ত্যা করেছে। গোয়ালন্দ ঘাট থা’নার ওসি আশিকুর রহমান জানান, পাপন সাহাকে থা’না হেফাজতে রেখে জরুরি প্রয়োজনে

আম’রা একটু বাইরে যাই। সেখান থেকে ফিরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেই। তার সঙ্গে কোনো প্রকার খা’রাপ আচরণ কেউ করেনি। রাতে তার ফোন পাওয়ার পর আমি তাকে ভালো’ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করি। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার পরিবারকেও জানাই। কিন্তু তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। থা’নায় আ’ট’কে রাখার কারণে কেউ আত্মহ’ত্যা করতে পারে তা বিশ্বা’স করা কঠিন। তিনি আরও জানান, তার মৃ’তদেহ উ’দ্ধার করে ময়নাত’দন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অ’পমৃ’ত্যু মা’মলা হয়েছে।jugantor