সেঞ্চুরি করার পর কি তোমাকে ভুতে ধরে ? জবাবে যা বললেন রোহিত

শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০ ১১:২৯ অপরাহ্ণ

তামিম ও রোহিত শর্মার মধ্যে লাইভ ভিডিও চ্যাটে আলাপচারিতার কিছু মূল পয়েন্ট তুলে ধরার চেষ্টা করলাম ।

লাইভের এক পর্যায়ে রোহিতকে তামিম প্রশ্ন করেন, ‘সেঞ্চুরি করার পর কি তোমাকে ভুতে ধরে! এতো বেশি আ’ক্রমণাত্মক খেল কীভাবে।

জবাবে রোহিত বলেন, ‘প্রথমে আমি চাপে থাকি। ইনিংসের শুরুতে। এরপর যখন খেলতে খেলতে একশ করে ফেলি, তখন তো অসাধারণ লাগে। একশ করে ফেলার পর আর কোনও চাপ নেই। তখন নির্ভার হয়ে খেলতে চেষ্টা করি।

একশ হয়েই গেলে সাধারণত কোনও ব্যাটসম্যানকে আউট করা যায় না, যদি ওই ব্যাটসম্যান ভুল না করে। আমি এটাই চিন্তা করি মাঝের সময়ে (একশ করার পর), যে কীভাবে আরও লম্বা সময় খেলা যায়।’

তামিমকে আরও বলেন, ‘আমার কাজ হচ্ছে ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত খেলে যাওয়া। এজন্য আমি নির্ভার হয়েই খেলি। ৪২ ওভারের পর আমি চেষ্টা করি প্রতি বলে মারতে। এর আগে আমি চেষ্টা করি, বল অনুযায়ী বুঝে শুনে খেলতে।

এটা অনেক সময় নির্ভর করে আমার সাথে উইকেটে কে আছে তাঁর ওপর। যদি লেজের সারির ব্যাটসম্যানরা থাকে তাহলে আমি প্রতি বলে মারতে যাই না, সুযোগ কম নিই। কিন্তু যদি দেখি মিডল অর্ডারের সেট কোনও ব্যাটসম্যান আছে বা পরে আরও ব্যাটসম্যান আছে, তখন সুযোগ নিই।’

বিপিএল নিয়ে বিসিবিকে রোহিতের পরামর্শ

রোহিত বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেটের ব্যাপারে অনেক আবেগপ্রবন। এমনটা বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও দেখিনি যেটা সত্যি। আমার মনে হয় এই উৎসাহটা যদি দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যায়, দুই-তিনজন খেলোয়াড় যদি নির্দিষ্ট একটি ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে খেলে কয়েকবছর তাহলে ভক্ত কূল বেজ বৃদ্ধি পাবে। দর্শকরাও একটা দলকে সেভাবেই সাপোর্ট করবে। ধরো তুমি সহ আরও কয়েকজন ঢাকার হয়ে অনেক বছর খেললে। আমার মনে হয় বিসিবির এমন কিছু করা উচিৎ।’

রোহিত শর্মা আরও বলেন, ‘দুই তিনজন মূল খেলোয়াড়কে একদলে অনেক বছর রাখা, নাহলে দর্শকদের উৎসাহ হারিয়ে যাবে। ধরো তারা তোমার জন্য একদলকে সমর্থন দিচ্ছে, এরপর শুনলো তুমি অন্য দলে চলে গেছ, তখন তাঁদের আরেক দলকে সমর্থন দিতে হচ্ছে। আমাদের মনে রাখা উচিৎ দর্শকরাই এই খেলার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। সেটা শুধু ক্রিকেট না, যেকোনো খেলাই হতে পারে। আমাদের কাছেও ভক্তদের গুরুত্ব অনেক বেশি। তুমি তাঁদের খেয়াল না রাখলে তারাও তোমার খেয়াল করবে না।’

আমাদের সঙ্গে যা করেন সেটা ঠিক না, রোহিতকে তামিম

মেলবোর্নে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ১৩৭, বার্মিংহামে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে অপরাজিত ১২৩, গত বিশ্বকাপে বার্মিংহামেই ১০৪। এ তো ৫০ ওভারের ক্রিকেট গেল। ২০১৮ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ৫৬, গত নভেম্বরে রাজকোটে ৮৫ করে ভারতকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফেরানো—বাংলাদেশকে পেলেই কেন যেন অস্বাভাবিক চওড়া হয়ে ওঠে রোহিত শর্মার ব্যাট। সে হোক ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টিতে।

তামিম ইকবাল বললেন, ‘আপনি আমাদের সঙ্গে যা করেন, সেটা ঠিক না।’ বাহাতি ওপেনার খুলে বসলেন পুরোনো বেদনার খাতাটাও, ‘২০১৫ বিশ্বকাপে আমাদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেঞ্চুরি করেছেন, ২০১৯ বিশ্বকাপেও সেঞ্চুরি করেছেন। এখানে আমাকে কৃতিত্ব দিতে হবে কারণ, আমি আপনার ক্যাচ ফেলেছিলাম। আপনার কোনো ধারণাই নেই এরপর আমাকে কী পরিমাণ ট্রল করা হয়েছে! এখনো সেই ক্যাচটা নিয়ে কথা শুনতে হয়। মাঝে মাঝে মানুষ বোঝে না এমন ঘটনা মাঠে ঘটে!’

এ যাতনার কথা শুনে রোহিত সান্ত্বনা দিলেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ককে, ‘সবাই জেতার জন্যই খেলে। দল, খেলোয়াড় সবাই একশ ভাগ দিতে মাঠে যায়। কেউ মাঠে ক্যাচ ফেলতে যায় না। খারাপ খেলতে যায় না। সবাই দল জিততে চায়।’

তামিমকে সান্তনা দিয়ে আরেকটি বাস্তবতা তুলে ধরলেন রোহিত, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মানুষ খুবই আবেগপ্রবণ। আমরা খারাপ খেললেও সবাই সমালোচনা করে। আমি বাংলাদেশি খেলেছি, দেখেছি, বাংলাদেশি সমর্থকরা কতটা আবেগপ্রবণ।

বাংলাদেশ একমাত্র জায়গা, যেখানে ভারত কোনো সমর্থন পায় না! বিশ্বের যেখানেই যাই না কেন ভারতীয় দর্শকের সমর্থন পেতে আমরা অভ্যস্ত। একমাত্র বাংলাদেশে সেটা হয় না। আমি জানি স্টেডিয়ামের আমাদের ২শ বা ৩শ সমর্থক আছে কিন্তু বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য তাদের শোনা যায় না। তোমাদের সমর্থকরা তোমাদের অনেক সমর্থন দেয়।’

ভারতীয় ওপেনার সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবালও। তিনি বলেন, ‘ হ্যাঁ আসলেই আমাদের সমর্থকরা আমাদের অনেক সমর্থন করে। সব সময় আমাদের পেছনে থেকে উৎসাহ দেয়। আমাদের সমর্থকরা অনেক আবেগি।’

টাইগার দলপতির সঙ্গে একমত রোহিত শর্মাও। বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের দর্শকরা দুর্দান্ত। আমি তোমাদের ফ্যানদের মতো এমন আবেগি ফ্যান আর কোথাও দেখেছি কিনা মনে পড়ে না।’