‘সামনে মৃত্যুও বাড়বে, কঠিন পথে করোনা’

শনিবার, মে ১৬, ২০২০ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি যেভাবে এগুচ্ছে, তাতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে মৃত্যুর হারও বাড়বে। এটা বাড়তে বাধ্য। তখন করোনায় এক কঠিন পথে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। যেখান থেকে উদ্ধার পাওয়াটা এ দেশের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে যাবে।

আজ ৬৮ তম দিনে বাংলাদেশে মাত্র ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৩০ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। এই পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮৬৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আজ তৃতীয় দিনের মতো বাংলাদেশে ১ হাজারের উপর করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গতকালের ১১ শ’ ৬২ জনের রেকর্ডকে ভঙ্গ না করতে পারলেও করোনার যে শতকরা হার সেটা অব্যাহত আছে। এখন বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনে ১৪ জন করোনায় শনাক্ত হচ্ছে। এই হারে যদি রোগী বাড়তে থাকে তাহলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশে করোনা চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন মৃত্যুর হারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করলেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্যই সামনে করোনা নিয়ে বাংলাদেশকে এক কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলায় সবচেয়ে আশাবাদী যে দিক ছিল সেটা হলো মৃত্যুর হার অনেক কম ছিল। একজন দুজন করে মারা যাচ্ছিল। এখন পর্যন্ত ৬৮ দিনে বাংলাদেশে করোনায় মারা গেছে ২৮৩ জন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই হিসেব নিয়ে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

কারণ বাংলাদেশে যদি আমরা করোনার হিসেব দেখি তাহলে দেখবো যে, আক্রান্তের সঙ্গে মৃত্যুর হারের সম্পর্ক রয়েছে। আক্রান্ত কম হলে মৃত্যু কম হবে। আবার আক্রান্ত বাড়লে মৃত্যু বাড়বে। এটাই হলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

আমরা যদি বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে যে, ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হয়েছিল। পুরো মার্চ মাস জুড়ে ২১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় মাস এপ্রিলে ১২ হাজার ৯১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল আর এখন প্রতি দিন ১ হাজার করে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। যার ফলে বাংলাদেশে সামনে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কার্যকারণ রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন যে, এখন ১৮ হাজার ৮৮৬ জন রোগীর মধ্যে সাড়ে ৩ হাজারের মতো চিকিৎসা নিচ্ছেন বাসায়। আরও ৪ হাজারের মতো মানুষ চিকিৎসা থেকে সাময়িক সুস্থতা সার্টিফিকেট নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। ফলে হাজার দশেক করোনা রোগী এখন রয়েছে সারা দেশে এবং মূল চাপটা ঢাকায়।

হাসপাতালগুলোতে এখনই করোনা রোগীদের জায়গা হচ্ছে না। সামনে যদি এই হারে রোগী বাড়তে থাকে তাহলে ৭ থেকে ১৪ দিন পর বাংলাদেশে করোনা রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার মতো অবস্থা থাকবে না। এখনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং হাসপাতালগুলো কম উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদেরকে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেরাই পরামর্শ দিচ্ছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, এটাই হলো আতঙ্কের। রোগী যখন বাড়বে, তখন অক্সিজেন দেওয়া যাবে না। অনেক রোগীকে আইসিইউ’তে নেওয়া যাবে না। অনেক রোগীর ভ্যান্টিলেশন হবে না। অনেক রোগী বাসায় থেকে চিকিৎসা করতে চাইবেন। ফলে দ্রুত মৃত্যুর হার বাড়বে। এমন পরিস্থিতি হয়েছিল ইতালি এবং স্পেনে।

এই দেশগুলোতেও প্রথম ৬৭-৬৮ দিন পর্যন্ত রোগীর হার কম ছিল। যখন রোগী বাড়ে তখনই মৃত্যুর হার আচমকা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, করোনার ৮০ ভাগ রোগীই মৃদু এবং সাধারণ উপসর্গ নিয়ে থাকেন। আর বাকি রোগীদের মধ্যে মাত্র ৫ ভাগ গুরুতর অসুস্থ থাকে। কাজেই রোগীর সংখ্যা যখন বাড়বে তখন মৃত্যুর সংখ্যা অনিবার্যভাবেই বাড়বে।

যদি আমাদের ১ লাখ করোনা রোগী হয়, তাহলে আমাদের ৫ হাজার রোগী হবে গুরুতর। সেই ৫ হাজার রোগীকে বাঁচানোর মতো সামর্থ আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আছে কিনা সেটাই হলো প্রশ্ন।

তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে মৃত্যুও বাড়বে। তখন করোনা নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে আমাদের এই মাতৃভূমি। তথ্যসূত্র:বাংলা ইনসাইডার