সম্রাট আত’ঙ্কে নেতারা

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এরকম তথ্য ছড়িয়ে পরার পর অনেকের মধ্যে আ’তঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় নেতারা এখন সম্রাট আ’তঙ্কে ভুগছেন। কারণ সম্রাট গত দশ বছরে শুধু দক্ষিণ যুবলীগের নেতৃত্ব দেননি শেখ হাসিনা ছাড়া প্রায় সবার সঙ্গেই সখ্যতা জমিয়ে তুলেছিলেন। সবার সঙ্গে তাঁর লেনদেন ছিল।

যুবলীগের একজন নেতা বলেছে যে, সম্রাট সাহায্য করেনি এমন আওয়ামী লীগের নেতা খুব কম। বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতাকেই কখনও নির্বাচনের অজুহাতে, কখনও সাংগঠনিক কাজে বা কখনও একান্ত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সহযোগিতা করেছিলেন। এইসব সহযোগিতা যে নিস্বার্থ ছিল এমনটিও নয়।

এসব সহযোগিতার কারণেই সম্রাটের মা’ফিয়া হয়ে ওঠাকে মুখ বুজে সহ্য করেছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই। আওয়ামী লীগের মধ্যে এরকম ধারণা ছিল যে, সম্রাট ধরাছোয়ার বাইরে। তাকে ছাড়া ঢাকা মহানগরীতে জনসমাগম করা অসম্ভব ব্যাপার, সংগঠন চালানো সম্ভব নয়।

ঢাকা মহানগরীতে আওয়ামী লীগের জনসভা করার জন্য সম্রাট যেন ছিল এক অপরিহার্যতা। সম্রাট ছাড়া যেন জনসভায় লোক সমাগম করা যায়না। ক্যাডার রাজনীতি করার কারণে সম্রাটের নেটওয়ার্ক ছিল তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। ক্যাসিনোর টাকা, চাঁ’দাবাজির টাকা তিনি দেদারসে বিলিয়েছেন তৃণমূল পর্যন্ত। যার কারণে তাঁর ভক্ত এবং ক্যা’ডার কর্মী বাহিনীর সংখ্যা কম নয়।

ঢাকা মহানগরই শুধু নয়, আওয়ামী যুবলীগের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ছিলেন সম্রাট। সম্রাট ছাড়া একটা বড় জনসভাও করা যেত না। এজন্য সম্রাটের সমস্ত অন্যায়, অবিচার বা সম্রাটের বিভিন্ন অপক’র্ম মুখবুজে সহ্য করতেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতারাই।

শুধু সহ্যই নয়, অনেকে প্রশ্রয় দিতেন। আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের দায়িত্বশীল নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়েই সম্রাট আজ এ জায়গায় এসেছে এবং তাদের সহযোগিতার মাধ্যমে সম্রাট তাঁর ক্যা’সিনো সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে।

উল্লেখ্য যে, গতবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্রাটের বিরুদ্ধে আঞ্জুমানে মফিদুলের কাছ থেকে চাঁ’দা চাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যুবলীগ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও যুবলীগ চেয়ারম্যান তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

বরং তিনি একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তাকে নিষ্কলুষ প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সম্রাটের বিরুদ্ধে এই সময় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং সম্রাটকে তারা বিভিন্ন সময় ব্যবহার করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায় আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়েই সম্রাট যুবলীগে এসেছিলেন। প্রভাবশালী ওই নেতা যিনি যুবলীগের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। তিনি সম্রাটের মূল নেতা বলে বিভিন্ন সূত্রের প্রাপ্ত খবরে জানা যায়।

সম্রাট বিভিন্ন সময় যে অপক’র্মগুলো করেছেন তাঁর কমবেশি প্রত্যেকটাই নেতারা জানতেন। সম্রাটের কাছ থেকে নানারকম সুযোগ সুবিধাও কমবেশি সবাই নিতেন। যে কারণেই আইন প্রয়োগাকারী সংস্থার কাছে যদি সম্রাট মুখ খুলতে শুরু করেন তাহলে কার হাড়ির কি খবর তিনি ফাঁ’স করবেন এ নিয়ে উদ্বেগে আছে আওয়ামী লীগের নেতারা। সম্রাট যদি সবার সঙ্গে সখ্যতার কথা কমবেশি বলে ফেলে তাহলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার জন্যই তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

সম্রাট যেসমস্ত অপক’র্মগুলো করেছে বিভিন্ন সময় সেগুলো আওয়ামী লীগের নেতারা জানতেন না এমনটি নয় বরং জেনেও তারা না জানার ভান করতেন। এখন কে কতটুকু সম্রাটের কাছে সহযোগিতা নিয়েছেন সেটা সম্রাটই ভালো বলতে পারবেন।

কাজেই সম্রাট এখন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে কি তথ্য দেন, কতদূর পর্যন্ত তথ্য দেন, কাকে কাকে তিনি কি উপঢৌকন দিয়েছেন সেসব তথ্য যদি তিনি প্রকাশ করেন তাহলে রাজনীতিতে একটা মৃদু ভুমিকম্প হতে পারে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এ কারণে সম্রাট আত’ঙ্কে এখন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার