রিফাত হ’ত্যার পরিকল্পনা যে ফোন নম্বর দিয়ে করা হয়

সোমবার, জুলাই ২২, ২০১৯ ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ফোন নম্বর দিয়ে – বরগুনায় আ লো’চিত রিফাত হ ত্যা। আ দালতে দেয়া স্বী’কারো’ক্তিমূলক জ’বানব’ন্দিতে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেছেন, একটি গো পন মোবাইল ফোন নম্বরে তিনি নয়ন বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিফাতকে শিক্ষা দিতে বলেন। ওই নম্বরে শুধু নয়নের সঙ্গেই কথা বলতেন তিনি।

মোবাইল নম্বরটি নয়নের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এমনকি রিফাত খু’ন হওয়ার পরও ওই নম্বরে নয়নের স’ঙ্গে মিন্নির দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপ হয়। প’লাতক থাকা নয়নকে মিন্নি বলেন, তুমি তো রিফাতরে কো’পাইয়া মা’ইরা ফালাইছ। এখন তো তুমি ফাঁ সির আ সামি হইবা। হ ত্যাকা’ণ্ডের আগে-পরে এসব কথাবার্তার ভয়েস রেকর্ড ও কললিস্ট সিডি আকারে মা মলার নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম গাজীর খাসকামরায় ১৯ জুলাই এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জ’বানব’ন্দি রেকর্ড করার সময় বি’চারক ও মিন্নি ছাড়া আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আড়াই পৃষ্ঠার জ’বানব’ন্দিতে রিফাত খু নের বিবরণ দেন মিন্নি। পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র রোববার যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

তবে এই জ’বানব’ন্দি প্র’ত্যাখ্যান করেছে মিন্নির পরিবার। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর রোববার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ‘আহা রে এই হল দুনিয়া। আমার মেয়েটারে মা’রধর করে জ’বানব’ন্দি নিয়েছে পু’লিশ। জে’লখা’নায় যখন আমি কথা বলতে গেছি তখন মেয়েটা আমার কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়ে। বলেছে, ‘বাবা পু’লিশ আমাকে যা শিখিয়ে দিয়েছে তাই বলেছি। আমি এ ঘ’টনার স’ঙ্গে জ’ড়িত নই।

স্বামীকে আমি কেন খু ন করাতে যাব। তিনি বলেন, ‘১২ ঘণ্টা পু’লিশ লাইনে বসিয়ে রেখে আমার মেয়েকে প্রচুর মা’রধ’র করা হয়। যখন আ দালতে তোলা হয় তখন আমার মেয়ে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছিল না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরগুনার পু’লিশ সুপার মারুফ হোসেন রোববার যুগান্তরকে বলেন, মিন্নির পরিকল্পনায় রিফাত শরীফ খু ন হন। তিনি আ দালতে দেয়া জ’বানব’ন্দিতে সব স্বী’কার করেছেন।

জ’বানব’ন্দিতে মিন্নি বলেন, ৬ লাখ টাকা কাবিনে ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নয়ন বল্ডের স’ঙ্গে তার বিয়ে হয়। নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগমসহ অনেকেই এই বিয়ের বিষয়টি জা’নতেন। কিন্তু মিন্নি বিয়ের বিষয়টি গো পন রেখে পরে রিফাতকে বিয়ে করেন। রিফাতের স’ঙ্গে বিয়ের পরও নয়ন বন্ডের স’ঙ্গে তার ঘ’নিষ্ঠ’তা ছিল। কলেজের দেয়ালের নিচ দিয়ে তিনি নয়নদের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন। জ’বানব’ন্দিতে মিন্নি বলেন, নয়নের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বি’চ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। কারণ মিন্নির একটি ‘ঘ’নি’ষ্ঠ মু’হূ’র্তের ভিডিও নয়নের কাছে ছিল।

এছাড়া জুনের ৩ তারিখে নয়ন বন্ড গ্রুপের সদস্য হেলালের মোবাইল ফোন সেট জো’র করে নিয়ে যায় রিফাত শরীফ। এ নিয়ে নয়নের স’ঙ্গে রিফাতের কথা কা’টাকাটি হয়। একপর্যায়ে নয়ন বন্ড মিন্নিকে বলেন, ‘রিফাতকে ফোন ফিরিয়ে দিতে বল। না হলে প’রিস্থিতি খা’রাপ হবে।

হ ত্যাকা’ণ্ডের দু’দিন আগে রিফাতকে মিন্নি বলেন, তুমি হেলালের ফোন ফেরত দাও। একথা শুনে রিফাত ক্ষি’প্ত হয়ে ওঠেন। নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চেয়ে মিন্নিকে প্র’চণ্ড মা’রধ’রও করে রিফাত। এতে মিন্নি ক্ষু’ব্ধ হন। পরদিন নয়ন বন্ডের কাছে রিফাতের বি রুদ্ধে অ’ভিযোগ দেন মিন্নি।

তিনি রিফাতকে শিক্ষা দিতে বলেন। এরপর নয়ন বন্ড তাকে শিখিয়ে দেন, কোথায় কিভাবে রিফাতকে নিয়ে হাজির থাকতে হবে। কথা অনুযায়ী মিন্নি ঘ’টনার দিন রিফাতকে কলেজে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। রিফাত এলে তাকে স’ঙ্গে নিয়ে কলেজ থেকে বের হন মিন্নি। কিন্তু তখনও নয়নের লোকজন প্র’স্তুত না হওয়ায় মিন্নি গোপন ফোন নম্বর দিয়ে নয়ন বন্ডের নম্বরে ফোন করে বলেন, ‘তোমার পোলাপান কই।’ এরপর নয়ন বন্ডের ছেলেরা আসার কিছুক্ষণ পরই মিন্নি রিফাতকে স’ঙ্গে নিয়ে কলেজ থেকে বের হন। এ সময় নয়ন বন্ডের সা’ঙ্গপা’ঙ্গরা তাকে ঘি’রে ধ’রে। প্রথমে কি’ল-ঘু’ষি দেয়ার পর এ’লোপা’তাড়ি কো পানো শুরু করে।

এদিকে মিন্নির মা মিলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলছি, শম্ভুর লোকজন এ ঘ’টনা ঘ’টিয়েছে। এখন নিজেরা বাঁ’চতে মিন্নিকে ফাঁ সাতে চাইছে। মিন্নি একেবারেই নি’র্দোষ।

মা মলার তদন্ত কর্মকর্তা হমায়ুন কবির বলেন, মিন্নি অনেকগুলো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন। এসব নম্বর ব্যবহার করে তিনি খু নের আগে-পরে নয়ন বন্ডের স’ঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সিমগুলো তার নিজের নামে ছিল না। তিনি জানান, নয়ন বন্ড মা’দক ব্যবসায়ী ছিলেন। মিন্নির একটি ব্যাংক হিসাবে নয়ন বন্ডের মোটা অংকের টাকা রাখা আছে। ইতিমধ্যে এর প্র’মাণও তারা পেয়েছেন।

বরগুনার একজন পু’লিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘ’টনার পর থেকেই মিন্নি স’ন্দেহের তালিকায় ছিলেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মিন্নি রিফাতকে র’ক্ষা করার আ’প্রা’ণ চে’ষ্টা করছেন। এমন দৃ’শ্য ভা’ইরাল হওয়ায় জনমত মিন্নির পক্ষে চলে যায়। এজন্য নি’রাপত্তা’র নামে তাকে মূলত ন’জরদা’রির মধ্যে রাখা হয়। তবে শে’ষমেশ পু’লিশি জে’রার মুখে ত’থ্যপ্র’মাণ দেখেশুনে মিন্নি সব কিছু অক’পটে স্বী’কার করেন। এ সময় তাকে গ্রে ফতার দেখানো হয়।

পু’লিশ বলছে, মিন্নির জ’বানব’ন্দির প্রতিটি পর্যায়ের প্রমাণ সংগ্রহ করে তা মা মলার ন’থিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে নয়নের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড, গো পন মোবাইল নম্বরের সিম, কল লিস্ট, ভিডিও ফুটেজ ও খুদেবার্তা বা এসএমএস। সূত্র: যুগান্তর