যেভাবে বুড়িগঙ্গার পানির নিচে ১২ ঘণ্টা বাচলেন সুমন বেপারি

সোমবার, জুন ২৯, ২০২০ ৭:০৭ অপরাহ্ণ

পানির নিচে ১২ ঘণ্টা বাচলেন সুমন-পানির নিচে সাধারণত ডুব দিয়ে কতক্ষণ থাকা যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন জানান, সাধারণত পানির নিচে ডু’বে গেলে যে কোনো মানুষ এক মিনিট

থেকে সর্বোচ্চ দেড় মিনিটের মধ্যে অক্সিজেনের অভাবে মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়াটাই স্বাভাবিক ঘটনা। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, ২৯ জুন সকালবেলা রাজধানীর সদরঘাটের অদূরে ময়ূর-২ নামে বড় জাহাজের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ডুবে যাওয়া ম’র্নিং বার্ড নামক লঞ্চের

যাত্রী সুমন বেপারি ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় কী’ভাবে বেঁচে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৯টা৩০ মিনিটে ডুবুরিরা যখন টিউবের মাধ্যমে লঞ্চটি ওপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং লঞ্চটির একাংশ ওপরে উঠে আসছিল ঠিক তখনই সুমন বেপারি লঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসেন। তার উ’দ্ধারের ঘটনায়

কেউ বলছেন, ‘রাখে আল্লাহ মা’রে কে?,’ কেউ বলছে, ‘নিশ্চয়ই এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা রয়েছে। সুমন বেপারি কেন কী’ভাবে বেঁচে থাকলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ময়ূর-২ লঞ্চের

ধাক্কায় ম’র্নিং বার্ড নামক ছোট্ট লঞ্চটি কয়েক সেকেন্ড সময়ের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। লঞ্চটি পানির নিচে উল্টে যাওয়ায় বাতাস আ’ট’কে থাকে অর্থাৎ এয়ার পকেট তৈরি হয়। সম্ভবত সুমন বেপারি যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে পানি প্রবেশ করেনি এবং সুমণ বেপারি এয়ার পকেট থেকে অক্সিজেন নিয়েই বেঁচে ছিলেন। এটাই একমাত্র কারণ, এ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো কারণ নেই।

সুমন বেপারিকে তাৎক্ষণিকভাবে উ’দ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লা’ইফ জ্যাকে’টে ঢেকে এবং শরী’র মেসেজ করে তার শরীর গ’রম করার চে’ষ্টা করেন। এরপর ওই ব্যক্তি চোখ মেলে তাকান। বর্তমানে তিনি পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী এবং তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর।jagonews24