যেভাবে ফেসবুক বান্ধবীর সঙ্গে করোনা নিয়ে চ্যাট করে ব্যবসায়ী খোয়ালেন ৫৫ লাখ টাকা!

রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২০ ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ করার টো’প দিয়ে স্কটিস নাগরিক নারীর ফাঁ’দে পড়ে প্র’তারিত হলেন ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার এক ব্যাবসায়ী।

খো’য়ালেন প্রায় ৫৫ লাখ টাকা। প্র’তারিত ব্যক্তির নাম আশিস সাউ।আশিসের দা’বি, গত ৬ এপ্রিল তার সঙ্গে ওই নারীর প্রথম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। নিজেকে স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ওই নারী আলাপ জ’মান। ওই নারী নিজেকে আমেরিকার একটি ওষুধ প্রস্তুতকারি সংস্থার প্রোকিওরমেন্ট ম্যানেজার বলে পরিচয় দেন।

গত ২১জুন চ্যাট চ’লাকালীন ওই নারী আশিকে জানান, তাদের সংস্থা করোনা প্রতিষে’ধ’ক ভ্যাকসিন ও ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে। ভারত থেকেই নেওয়া হচ্ছে এই ওষুধের কাঁচামাল। সেই কাঁচামাল যারা পাঠাচ্ছেন, তারা মোটা কমিশন পাচ্ছেন।

আশিসকেও সে ওই কাজে যু’ক্ত হওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রথমে তিনি না করে দেন। পরে অবশ্য তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। তারপরই ওই নারী আশিসকে সাহায্য করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। এরপর খুব দ্রুত কাঁচামাল প্রস্তুতকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

মহারাষ্ট্রের সেই সংস্থার ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইলসহ যাবতীয় ত’থ্য দিয়ে দেন। আশিসকে জানিয়ে দেন, ৬ জুলাই বিদেশ থেকে বিশেষ ফ্লাইট গিয়ে ওই কাঁচামাল নিয়ে যাবে। হাতে সময় কম। তাই আশিস ফোন নম্বর পাওয়া মাত্র দেরি না করে কাঁচামাল কেনার জন্য অর্ডারও দিয়ে দেন।

কিছুদিন পর মহারাষ্ট্রের সেই সংস্থা জানায়, মোট দামের ৪০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হবে। সেই টাকা পাওয়ার কিছুদিন পর ফে’র জানানো হয়, আরও টাকা দিতে হবে। তা না হলে কাঁচামাল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এইভাবে ধা’পে ধা’পে ৫৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়।

দিনের পর দিন অতিক্রা’ন্ত হওয়ার পরেও কাঁচামাল তার না’গালে আসেনি। এমনকি তার কমিশনের যে টাকা তার পাওয়ার কথা ছিল সেই সং’ক্রা’ন্ত আর বি আই’র নাম করে একটি ভু’য়া মেল পান তিনি। তখন বুঝতে পারেন, প্র’তারকচ’ক্রের পা’ল্লায় পড়েছেন তিনি। এরপর একাধিকবার সেইসব নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

কিন্তু ব্য’র্থ হন। তিনি মোট তিনটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। সেইসব অ্যাকাউন্ট রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের বলে পরে জানা গেছে। আশিস ইতিমধ্যেই পাঁশকুড়া থানায় অভি’যোগ দায়ের করেছেন। সিআইডিকেও পু’রো বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। জেলা পুলিশ সুপার সুনীল কুমার যাদবের বক্তব্য, অভিযোগ পেয়েছি তদ’ন্ত চলছে।