মিন্নির জন্য সুখবর

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২০ ১২:২৬ অপরাহ্ণ

মিন্নির জন্য সুখবর-আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ছিলেন স্বামী রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার স্বা’ক্ষী। পু’লিশি ত’দন্তে হ’য়ে গেলে’ন আসা’মি। গ্রে’প্তারও ক’রা হয় তাকে। এরপর আ’বার হাইকো’র্ট থেকে জা’মিনে মু’ক্তি মে’লে তার। এবার মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রা’য় ঘো’ষণা হ’লো তা’র বিরু’দ্ধে। রা’য়ে মিন্নিকে এ হ’ত্যাকা’ণ্ডের

মা’স্টারমাইন্ড হিসেবে চি’হ্নিত ক’রেছেন আদা’লত। ফলে আ’বারও তার স্থা’ন হ’লো কারা’গারে। তাও আ’বার ক’নডে’ম সে’লে। এদিকে মিন্নির এই রা’য় নিয়ে বি’ভিন্ন ম’হলে চ’লছে আ’লোচনা। মিন্নি কি আ’সলেই অ’পরাধি? তার কি স’ত্যিই ফাঁ’সি হবে? নাকি উ’চ্চ আদা’লতে তি’নি খা’লাস বা ক’ম সা’জা ভো’গ ক’রবেন?

এ রকম না’নান প্র’শ্নের মধ্যে উঠে এ’সেছে অ’সংখ্য অ’জানা ত’থ্য। এদিকে আ’য়েশা সিদ্দিকা মি’ন্নির ফাঁ’সির রা’য় কা’র্যকর নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁ’য়াশা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে এবং ত’থ্যে দেখা গেছে- দেশে আজ পর্যন্ত কোনো না’রী আসা’মির ফাঁ’সি কা’র্যকর হ’য়নি! ফলে মি’ন্নির জন্য এ’টি এক’টি সু’খবর ব’টে।

একাধিক গণ’মাধ্যম কা’রা সূত্রের বরা’ত দিয়ে জা’নিয়েছে, কারা’গারগু’লোতে ফাঁ’সির দ’’ণ্ডপ্রাপ্ত না’রীদের ম’ধ্যে কেউ কেউ ১০-১৫ বছর ধরে ক’নডে’ম সে’লের বাসিন্দা। দেশে ব’হু পু’রুষ আ’সামির ফাঁ’সি কা’র্যকর হলেও কো’নো না’রী আ’সামির ফাঁ’সি কা’র্যকর হয়েছে, এমন তথ্য পাও’য়া যা’য়নি। এবিষয়ে গ’ণমাধ্যমকে এক কা’রারক্ষী জা’নান,

তিনি ২৮ বছর ধ’রে চা’করি কর’ছেন, আজ পর্যন্ত কোনো না’রী আসা’মির ফাঁ’সি হয়েছে, এমন কথা তি’নি শো’নেননি। ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্ত না’রী আসা’মিদের ম’ধ্যে সবাই হ’ত্যার দা’য়ে দ’ণ্ডিত হয়ে’ছে বলে কারা সূ’ত্রে জা’না গেছে। ক’লহের জে’র ধরে নি’জ পরি’বারের কোনো সদ’স্যকে হ’ত্যার দা’য়েই ফাঁ’সির দ’ণ্ড পেয়ে’ছে এ’দের বে’শির ভা’গ।

কা’রা সূত্র জা’নায়, প্রতিটি ক’নডে’ম সে’ল ক’মবেশি ১০ হাত দৈর্ঘ্য ও ছয় হাত প্রস্থে’র হয়। প্রতি সেলে তিন-চারজন করে ফাঁ’সির আসা’মিকে রা’খা হয়। প্রতি সেলে গ্রি’লঘেরা বা’রান্দা রয়েছে। ওই বা’রান্দাতেই তা’দের হাঁটার সুযো’গ মেলে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাদের থাকতে হয় সে’লের ভে’তর ও বা’রান্দায়। এক কা’রা কর্ম’কর্তা জা’নান,

প্রতিদিন দুপুরে গোসল করার জন্য তাদের বে’র হতে দেওয়া হয়। গো’সলের আগে সেলের আশপাশে ১৫-২০ মিনিট হাঁ’টার সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে যা’চ্ছে তাদের। ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তরা মা’সে এক দিন সু’যোগ পায় তাদের আ’ত্মীয়-স্বজ’নের সঙ্গে’ দেখা করার। তখন তা’রা সে’ল থেকে বে’রিয়ে কা’রাগারের গে’টে স্ব’জনদের স’ঙ্গে দে’খা ক’রে।

সূত্র জা’নায়, ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তদের জ’ন্য বরাদ্দ র’য়েছে এক’টি করে থালা, বাটি ও কম্বল। এর বাইরে আর কোনো ধরনের সু’যোগ-সুবিধা নেই। এক হিসাবে দেখা গেছে, স্বা’ধীনতার পর থেকে শ’তাধিক না’রীর ফাঁ’সির আ’দেশ হ’য়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো না’রীর ফাঁ’সি কা’র্যকর হ’য়নি। তাদের ম’ধ্যে অনেকেই দী’র্ঘদিন কা’রা ভো’গ ক’রার পর বে’রিয়ে গেছে, কেউ কে’উ মা’রা গেছে, কা’রো কা’রো আ’পিলে শা’স্তি ক’মেছে।

এদিকে ২০০৭ সালে কাশি’মপুরে এক’মাত্র ম’হিলা কারা’গার উ’দ্বোধন ক’রা হয়। দেশের প্র’তিটি কারা’গারে ফাঁ’সির মঞ্চ থাক’লেও সে’খানে কো’নো ফাঁ’সির মঞ্চ নেই। জা’না গেছে, অ’তীতে কোনো না’রী আসা’মির ফাঁ’সি কা’র্যকরের রে’কর্ড না থা’কায় ফাঁ’সির ম’ঞ্চ বা’নানো হয়’নি। কারাগা’রে ২২ বছ’র ধ’রে চা’করি ক’রেন এমন এক কর্ম’কর্তা জা’নান,

নিয়’মানুযায়ী ফাঁ’সির আসা’মিরা স’র্বশেষ সু’যোগ হিসেবে রা’ষ্ট্রপতির কাছে ক্ষ’মা প্রা’র্থনা ক’রতে পা’রে। রা’ষ্ট্রপতি তাদের ক্ষ’মা না ক’রলে ফাঁ’সি থে’কে বাঁ’চার কো’নো সুযো’গ নেই। তবে আজ পর্যন্ত কোনো না’রীর আ’বেদন রাষ্ট্র’পতির কা’ছে গে’ছে, এমন খ’বরও তি’নি শো’নেননি। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ৪৯ জন না’রী ফাঁ’সির দ’ণ্ড মা’থায় নি’য়ে বি’ভিন্ন কারাগা’রের কন’ডে’ম সে’লের বা’সিন্দা।

ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তদের থা’কার এই সে’লের স’র্বশেষ বা’সিন্দা হয়ে’ছেন বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গতকাল বুধবার রি’ফাত শরীফ হ’ত্যা মাম’লার রা’য় ঘোষ’ণার পর মিন্নিকে বরগু’না কা’রাগারে নিয়ে যাও’য়া হয়েছে। এই কা’রাগারে আর কোনো না’রী ফাঁ’সির আ’সামি না থা’কায় তিনি একাই হ’য়েছেন ক’নডেম সে’লের বা’সিন্দা।

বরগুনা কা’রাগারের সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ফাঁ’সির আ’সামি হিসেবে তাকে (মিন্নি) ক’নডেম সে’লে রা’খা হয়েছে। এই কারাগা’রের না’রী ই’উনিটে ১৯ জ’ন ব’ন্দি ছি’ল। মি’ন্নিকে নিয়ে ২০ জন হলো। এদিকে রা’য়ের পর মিন্নির পরিবার ও তার আই’নজীবীরা শতভাগ আ’শাবাদি যে- উচ্চ আদা’লতে মি’ন্নির সাজা ক’মবে অথবা খা’লাস হয়ে বা’ড়ি ফি’রবেন তিনি। তবে যে যাই বলু’ক সা’র্বিক পর্যবে’ক্ষণে মি’ন্নির জন্য যে একটা সুখব’র রয়েছে তা ব’লাই যায়!

সূত্র: একুশে টেলিভিশন