ম’দ্যপানে বিখ্যাত যে রাজনীতিবিদরা,কার কি অভ্যাস তা নিয়েও..

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযানে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ম’দ এবং জু’য়া। যেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, সেখানেই পাওয়া যাচ্ছে ম’দ। রাজনীতির সঙ্গে ম’দের সম্পর্ক কতটুকু, এ নিয়ে চায়ের আড্ডায়, বিভিন্ন আলাপচারিতায় বিভিন্ন রকম গুঞ্জন চলছে।

কারা কারা ম’দপান করেন, রাজনীতিবিদদের কার কি অভ্যাস তা নিয়েও চর্চা কম হচ্ছে না। বাংলা ইনসাইডারের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপার নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। ম’দ্যপানের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিখ্যাত এবং আলোচিত রাজনীতিবিদদের খোঁজখবরও নেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়েই আমাদের আজকের প্রতিবেদন।

মশিউর রহমান যাদু মিয়া

ম’দ্যপানের জন্য রাজনীতিবিদদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মশিউর রহমান যাদু মিয়া এখনো শীর্ষেই রয়েছেন। মশিউর রহমান যাদু মিয়া একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার রাজনীতিজীবন শুরু হয়েছিল মাওলানা ভাসানীর হাত ধরে।

মাওলানা ভাসানী পল্টনের এক জনসভায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, চালের দাম বাড়ছে, ডালের দাম বাড়ছে, ম’দের দাম বাড়ছে কিনা সেটা জানে যাদু মিয়া। সেই মশিউর রহমান যাদু মিয়া এখন নেই। কিন্তু তার মেয়ে রিটা রহমান এবার রংপুরে এরশাদের শূন্য আসনে উপ-নির্বাচন করছেন।

শাহ আজিজুর রহমান

শাহ আজিজুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীকে প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। মুসলিম লীগের নেতা হলেও ম’দ্যপানের জন্য তিনি খুবই আলোচিত ছিলেন। প্রায়ই মাতাল অবস্থায় বিভিন্ন বারে তিনি পড়ে থাকতেন এবং সেখান থেকে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বাসায় পৌঁছে দিতো। তিনিও জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ ছিলেন।

কে এম ওবায়দুর রহমান

বিএনপির অন্যতম আলোচিত এবং প্রভাবশালী মহাসচিব ছিলেন কে এম ওবায়দুর রহমান। তিনিও ম’দ্যপানের জন্য আলোচিত ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া যখন সদ্য বিএনপির চেয়ারম্যান হয়েছেন, তখন কে এম ওবায়দুর রহমান জনসভার মঞ্চেই ম’দ্যপান করে আলোচিত হয়েছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়ার ম’দ্যপান নিয়ে অনেকরকম কথাই প্রচলিত আছে। তবে যে অত্যন্ত দামী ব্র্যান্ডের ম’দ্যপান করেন তা জানা যায় যখন ক্যান্টনমেন্ট ৬ নম্বর মঈনুল রোডের বাসা আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে খালি করা হয়। তার বাসায় দামি ব্র্যান্ডের ওয়াইনসহ বিভিন্ন ম’দ পাওয়া যায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, বেগম খালেদা জিয়া সবসময় কনিয়েক, রেড ওয়াইন বা হোয়াইট ওয়াইন জাতীয় দামী পানীয় পান করতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নেতা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার যখন আর্থ্রাইসের ব্যাথা তখন থেকেই তিনি ম’দ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ব্যথা নিবারণের জন্যই তাকে ম’দ্যপান করতে হতো।

মোর্শেদ খান

বিলাসী মদ্যপায়ী হিসেবে মোর্শেদ খানের অনেক সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রচলিত আছে যে, খুব দামী ব্র্যান্ডের বিলাসী ম’দের যদি দরকার হয় তাহলে তা মোর্শেদ খানের কাছে পাওয়া যাবে। ম’দ কালেকশন তাঁর এক ধরণের শখ বলেও রাজনৈতিক পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে।

ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ

ওয়ান ইলেভেনের সময় অভিযান পরিচালনা করে ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদের বাসায় পাওয়া গিয়েছিল দামী বিদেশি হুইস্কি। তবে হুইস্কিতে তেমন আসক্ত নন ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ। বিভিন্ন কূটনৈতিক পার্টিতে তাকে দেখা যায় রেড ওয়াইন খেতে। বয়স বাড়লেও ম’দের নেশাটা তাঁর এখনও কমেনি। নিয়মিত রেড ওয়াইন পান করা ছাড়া তিনি ঘুমাতে যান না।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু

বিলাসীদের মদের আড্ডা হবে আর আব্দুল আউয়াল মিন্টু সেখানে থাকবেন না সেটা কি করে হয়? আব্দুল আউয়াল মিন্টু শুধু নিজে ম’দ্যপায়ী নন ম’দপানে আপ্যায়িত করার জন্যও বিখ্যাত। অনেক গণমাধ্যম কর্মীই মুখিয়ে থাকেন কখন আব্দুল আউয়াল মিন্টু তাকে দাওয়াত দিবে এবং তাকে ম’দ্যপানে আপ্যায়িত করবে। একসময় তিনি একটি পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত আসর বসাতেন। তবে বিএনপি বিরোধী দলে যাওয়ার পর আস্তে আস্তে পাঁচ তারকা হোটেলে বসা কমিয়ে দিয়েছেন। তবে তাঁর বাসায় নিয়মিত ম’দের আড্ডা এখনও হয়।

এইসমস্ত রাজনীতিবিদরা ছাড়াও আরও অনেকেই আছেন যারা ম’দ্যপান নিয়ে কোন রাখঢাক করেন না। প্রকাশ্যে ম’দ্যপান করেন। তবে বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ম’দ্যপায়ী রাজনীতিবিদদের যে তালিকা সেই তালিকার প্রায় পুরোটাজুড়েই আছে বিএনপির বিভিন্নস্তরের নেতাদের নাম। আওয়ামীলীগের হাতেগোণা কয়েকজন যাদের ম’দ্যপানের কথা শোনা গিয়েছিল তাদের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তবে তিনি ম’দ্যপান করেন এরকম গুঞ্জন থাকলেও বাস্তবে আসলে তিনি কতটা ম’দ্যপায়ী ছিলেন সেটা একটা প্রশ্নই রয়ে গেছে।সূত্র:বাংলাইনসিডার