বেশির ভাগ করোনা রোগীর মধ্যেই তিনটি লক্ষণের অন্তত একটি দেখা গেছে, সেই তিন লক্ষণ হল…

বুধবার, জুলাই ২২, ২০২০ ১:৩৯ অপরাহ্ণ

প্রাণঘা’তী করোনাভাইরাসে নাকাল গো’টা বিশ্ব। এই ভাইরাসের তা’ণ্ডবে ইতোমধ্যে ধ্বং’সয’জ্ঞে পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধ’র রাষ্ট্র আমেরিকা ছাড়াও ব্রিটেন, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও ব্রাজিলের মতো দেশ। এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিষেধ’ক আবিষ্কার না হওয়ায় বিধ্বং’সী রূ’প নিয়ে বিশ্বব্যা’পী সং’ক্র’মণ ছ’ড়িয়ে যাচ্ছে এই ভাইরাস।

করোনা এমন একটি ভাইরাস যা শ্বাসযন্ত্রে আ’ক্র’মণ করে। ফ্লুর মতো লক্ষণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, পেশী ব্যথা থেকে শুরু করে রোগীদের মধ্যে প্রচুর লক্ষণ দেখা দেয়। নির্দিষ্ট লক্ষণগুলো কেন এবং কীভাবে দেখা দেয় সে সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে আমেরিকার রোগ নিয়’ন্ত্রণ ও প্রতিরো’ধ কেন্দ্র (সিডিসি) এর একটি ছোট্ট গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা সং’ক্র’মণে আক্রা’ন্ত প্রায় সব রোগীর তিনটি সাধারণ লক্ষণ ছিল। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

গবেষণা: সিডিসি দ্বারা করা একটি ন’মুনা সমীক্ষায় ১৬৪ জনের স্বাস্থ্য পরমিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যারা ১৪ জানুয়ারি এবং ৪ এপ্রিল এর মধ্যে করোনা পজেটিভ বলে শনা’ক্ত হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে এই রোগ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যায়নি, তাই রোগীদের বিভিন্ন উপস’র্গের বিষয়ে রিপো’র্ট করতে বলা হয়েছিল এবং যেসব লক্ষণ খুব বেশি পরিচিত ছিল না, তা দেখা দিলেও জানাতে বলা হয়েছিল।

করোনাভাইরাসের সাধারণ লক্ষণগুলো কী?

সমী’ক্ষার ফলাফল অ’নুসারে, প্রায় ৯৯%, অর্থাৎ সমীক্ষা করা প্রায় সব রোগীই জানিয়েছেন যে, তাদের মধ্যে তিনটি লক্ষণের অন্তত একটি দেখা গেছে। সেই তিন লক্ষণ হল জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। এর মধ্যে ৪৫% বলেছেন যে, তাদের অসুস্থতার সময় তিনটি উপস’র্গ একসাথে দেখা দিয়েছিল।

কাশি:

কাশি করোনাভাইরাসের সর্বাধিক সাধারণ লক্ষণ হিসেবে দেখা গেছে। করোনাভাইরাসের হালকা লক্ষণ ঠাণ্ডা বা ফ্লুর মতো শুরু হয়, তবে শুকনো কাশি দেখা দিলে সেটি উ’দ্বে’গের কারণ হতে পারে। জরিপকৃ’তদের মধ্যে ৮০% শুকনো কাশির উপস্থিতি তাদের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে রেক’র্ড করেছেন।

জ্বর:

করোনাভাইরাস রোগীদের মধ্যে প্রচলিত দ্বিতীয় সাধারণ লক্ষণ হল জ্বর। সম্ভবত প্রদা’হের ফলে এবং করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্ত হওয়ার ২-১৪ দিন পরে এটি দেখা দিতে পারে। জ্বর অনেকরকম সং’ক্র’মণের কারণে হতে পরে, তাই তিনদিনের বেশি জ্বরে ভু’গলে এবং তা যদি ১০০ ডিগ্রির বেশি হয় তবে উদ্বি’গ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

শ্বাসকষ্ট:

শ্বাসকষ্ট বা অ’স্থি’রতা বোধ করা সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের রেকর্ড করা তৃতীয় সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ ছিল। তবে, গবেষণা অ’নুসারে সং’ক্র’মণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে লক্ষণটি বেশি দেখা গিয়েছিল।

করোনাভাইরাস যেহেতু ওপরের শ্বাসয’ন্ত্রের ট্র্যা’ক্ট আ’ক্র’মণ করে, এটি বেশিরভাগ সময় শ্বাসনা’লীকে অবরু’দ্ধ করে তো’লে যা শ্বাসকষ্টের দিকে নিয়ে যায়। এই লক্ষণ দেখা দিলে কখনোই এ’ড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

গবেষণার অন্যান্য অনুসন্ধান:সিডিসির সমীক্ষায় এগুলো ছাড়াও করোনা সং’ক্র’মণের আরও কিছু লক্ষণ উঠে এসেছে। পেশী ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা, মাথাব্যথা, গ্যা’স্ট্রোইন’টেস্টাই’নাল সমস্যা যেমন পেটে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা যায়। চিকিৎসা করায়নি বা হাসপাতালে ভর্তি হয়নি এমন অনেকে জানিয়েছেন তারা গন্ধ বা স্বাদের অনুভূ’তি হা’রিয়েছিলেন।

যদিও এটি একটি ন’মুনা গবেষণা। তবে এর ফলাফল কোয়ারেন্টাইন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে সং’ক্র’মণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।