বাংলাদেশী প্লেয়ারদের বেতন বৃদ্ধি ! সিকান্দার রাজাদের কান্না

বুধবার, মার্চ ১১, ২০২০ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

ক্রিকেট এখন শুধু বাইশ গজে ব্যাটে বলের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নয়।মারমার কাটকাট ক্রিকেটের এই যুগে রঙিন দুনিয়ার গ্ল্যামার আর খেলাধুলার বাণিজ্যিকীকরণের প্রভাবও কম নয় ভদ্রলোকেদের এই খেলাতে। বরং অন্য খেলার চেয়ে একটু বেশি। আর এখন ক্রিকেটের অন্যতম বড় আকর্ষণ টি-টোয়েন্টি লীগগুলো তো টাকারই খেলা।

গতকাল জিম্বাবুয়েদের সাথে সিরিজ চলাকালীন ক্রিকেটারদের সাথে নতুন করে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২০ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ঠাই পেয়েছেন ১৭ জন ক্রিকেটার। এবার লাল বল ও সাদা বলের জন্য হয়েছে আলাদা চুক্তি।

লাল বলের চুক্তিতে ১১ জন ক্রিকেটার এবং সাদা বলের চুক্তিতে ১৩ জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন। দুই বলের ক্রিকেটের জন্যই চুক্তিতে সুযোগ পেয়েছেন ৭ জন ক্রিকেটার।তবে যে ক্রিকেটাররা দুই বলের জন্যই চুক্তিতে রয়েছেন, তারা দুই বলের সম্পূর্ণ টাকা পাবেন না। যে বলের চুক্তির ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি উচ্চ, সেই ক্যাটাগরির পুরো টাকা পাবেন। সাথে যোগ হবে অপেক্ষাকৃত নিম্ন ক্যাটাগরি থাকবে যে বলের চুক্তিতে, সেই ক্যাটাগরির অর্ধেক পারিশ্রমিক।

অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি এই তিন ফরম্যাটের নেতৃত্বে থাকা (যথাক্রমে) তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাড়তি ৩০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়সীমায় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার মূল্যায়ন হিসেবে মুশফিক পাবেন বাড়তি ২০ হাজার টাকা।

সেই হিসেবে এবার সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাবেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম। তার মাসিক পারিশ্রমিক ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুশফিক প্রতি মাসে পাবেন ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা করে। টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক রিয়াদ লাল বলের চুক্তিতে না থাকলেও মত ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা মাসিক পারিশ্রমিক পাবেন।

পারিশ্রমিক বিবেচনায় তিনি রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। লাল বলের চুক্তিতে থাকা টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক পাবেন ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার চেয়েও বেশি পাবেন শুধু সাদা বলের চুক্তিতে থাকা সৌম্য সরকার। প্রথম দফায় চুক্তির তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে তালিকায় জায়গা পাওয়া এই ক্রিকেটারের মাসিক পারিশ্রমিক ৪ লাখ টাকা।

৩ লাখ টাকা করে পাবেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাইজুল ইসলাম আড়াই লাখ এবং মোহাম্মদ মিঠুন ও মুস্তাফিজুর রহমান ২ লাখ টাকা করে পাবেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও নাজমুল হোসেন শান্ত দেড় লাখ টাকা এবং আফিফ হোসেন ধ্রুব, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী, এবাদত হোসেন ও নাইম শেখ ১ লাখ টাকা করে পাবেন।

ক্যাটাগরিভিত্তিক পারিশ্রমিক এ+ ক্যাটাগরি- ৪ লাখ টাকা,এ ক্যাটাগরি- ৩ লাখ টাকা , বি ক্যাটাগরি- ২ লাখ টাকা , সি ক্যাটাগরি- ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা , ডি ক্যাটাগরি- ১ লাখ টাকা

এবার আসি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের প্লেয়ারদের বেতন কাঠামো নিয়ে।১১ হাজার শতাংশেরও বেশি মুদ্রাস্ফীতির দেশ জিম্বাবুয়ে।অর্থনীতির মত ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক পারফর্মেন্সও ছন্নছাড়া। ক্রিকেটাররা বোর্ডের কাছ থেকে যে বেতন পান তা নিতান্তই নগণ্য। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের মাসিক বেতনের অংকটা মাত্র ৯০০ থেকে ১৪০০ মার্কিন ডলার।

সদ্য অভিষিক্ত হওয়া কোন ক্রিকেটার এর ক্ষেত্রে এই অংকটা মাত্র ৩০০ ডলার। আর সিরিজ চলাকালীন সপ্তাহ প্রতি বোর্ডের কাছ থেকে গড়ে ৫০০ ডলার করে পান স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা। এই প্রাপ্ত টাকার অর্ধেকই সরকার আবার কর হিসেবে নিয়ে নেয়।শুধু তাই নয়,নিজেদের চিকিৎসা খরচের ৪০ শতাংশই জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটাররা নিজেদের পকেট থেকে দেন।

আর্থিক এই দুর্দশার কারণে ইতোমধ্যেই জিম্বাবুয়ে ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন অনেক ক্রিকেটার। তবে এত কিছুর মাঝেও এখনও ক্রিকেটে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন এলটন চিগুম্বুরা-হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং রাজারা। টাকা নয়,জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রেখেছে ক্রিকেটারদের কঠোর পরিশ্রম আর ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালোবাসা।

তাইতো জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক শন উইলিয়ামস বলেই ফেলেছেন, তোমাদের ঘরোয়া লীগের প্লেয়াদের থেকেও আমরা কম বেতন পাই। আমাদের যদি যোগ্য সম্মান দিত তোমাদের মত করে তাহলে আমাদের দলটাও ক্রিকেট বিশ্বে বড় বড় দলের মত আলোচনায় থাকতো।