প্রদীপের নিচে অন্ধকার, থলের বেড়াল বেরিয়ে আসছে প্রদীপ কেন জ্বলছিল?

শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২০ ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন সব থলের বেড়াল বেরিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ। মুক্তিপণ, চাঁ’দা দাবি করা, মানুষকে আ’টক করে টাকা নেওয়া, ক্র’স’ফা’য়ারের ভ’য় দেখিয়ে চাঁ’দা আদায়, অন্যের জমি দখল

ইত্যাদি নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে এবং কয়েকবার সে চাকরি থেকে বরখাস্তও হয়েছিলেন। কাজেই প্রশ্ন উঠেছে যে, এত অভিযোগ থাকার পরেও কিভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল ওসি প্রদীপ?

কেন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন, তার গ’ড’ফাদারই বা কে ছিল। প্রদীপ এতসব অভিযোগগুলো পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা উর্ধ্বতন মহলের নজরে আসেনি কেন তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বছরের জানুয়ারিতে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় পুলিশকে দু’র্নী’তিমুক্ত থাকার জন্যে অনুরোধ করেছেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে যেন কোন রকমের অভিযোগ না ওঠে সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কিন্তু এখন পর্যন্ত যে সমস্ত প্রাপ্ত তথ্য রয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে, টেকনাফের এই ওসি একাধিকবার চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছিল এবং সেই তদন্তে দো’ষী প্রমাণিত হয়েছিলেন, এরপরেও তিনি কিভাবে ওসির দায়িত্ব পালন করেন সেই নিয়ে বিষ্ময় রয়েছে।

এর আগেও আমরা দেখেছি যে, প্রতারক সাহেদকে যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন দেখা গিয়েছিল সাহেদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৬ সালে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছিল, সেখানে সাহেদকে প্র’তারক হিসেবে অবিহিত করা হয়েছিল।

তারপরেও সাহেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েও বৈঠক করেছিলেন। ওসি প্রদীপও কিভাবে এত অভিযোগ নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই ফাঁকগুলো খুঁজে বের করার উপরে তাগিদ দিয়েছেন অ’প’রাধ বিশ্লেষকরা এবং

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন যে, প্রদীপরা কিভাবে জ্বলতে থাকে সেটা অনুসন্ধান করতে হবে এবং তাহলেই ভবিষ্যতে সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের মতো ঘটনাগুলো ঘটবে না।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার