প’রকীয়ার বানে ভেসে গেল সংসার, সন্তান হলো খু’নি

সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২০ ৬:২৬ অপরাহ্ণ

প’রকীয়ার বানে ভেসে গেল সংসার-স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে পারভীন আক্তারের সংসার। প্রায় ১০ বছর আগে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ফজলুল হক রিপন নামে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে প’রকীয়ায় জ’ড়িয়ে পড়েন পারভীন। পরিবারের সদস্যরা টের পেতে থাকেন যে, পারভীনের সঙ্গে রিপনের অ’নৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা পা’রভীনকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এদিকে ১০ বছরের ব্যবধানে কি’শোর রি’পন হয়ে যান যুবক। এরই মধ্যে পারভীনের দুই মে’য়ের বিয়েও হয়েছে। কিন্তু রিপনের সঙ্গে পারভীনের অ’নৈতিক স’ম্পর্ক বন্ধ হয়নি। ছেলে মো. নয়নের (২২) সামনেই প্রে’মিক রিপনের সঙ্গে অ’নৈতিক স’ম্পর্কে লিপ্ত হন পারভীন।

এ নিয়ে রিপন ও নয়নের মধ্যে বা’গ্বিতণ্ডার জেরে রিপনকে ছু’রিকাঘাত ক’রেন নয়ন। গু’রুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃ’ত্যু হয় রিপনের। গত শুক্রবার রাজধানীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের কনসালক্যাম্পে ন’য়নের ছু’রিকাঘাতে খু’ন হ’ন রিপন। এ ঘ’টনায় গত মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ থেকে নয়নকে গ্রে’প্তার করে ঢাকা মহানগর গো’য়েন্দা পু’লিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনাল টিম।

পরে তাকে এক দিনের রি’মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি। জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন জানায়, তার মায়ের প’রকীয়ায় তাদের পুরো প’রিবারটি ত’ছনছ হয়ে গেছে। স’ন্তানদের ভবিষ্যৎ ও মান-সম্মানের কথা ভেবে তার বাবা সব মেনে নিয়েছিলেন। ডি’বির মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমের এডিসি আহসান খান গণমাধ্যমকে বলেন, পল্লবীতে রিপন খুনের ঘটনায় মূল অ’ভিযুক্ত নয়নকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে।

তাকে রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি হ’ত্যার কথা স্বী’কার করেছেন। ডিবি ক’র্মকর্তাদের নয়ন জানিয়েছেন, তার বাবা একজন রি’কশাচালক। তারা মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের কনসালক্যাম্পে একটি ছোট্ট ক’ক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। ওই একটি কক্ষেই নয়ন ও তার দুই বোন ছোট থেকে বড় হয়েছেন। পরিবারের হাল ধ’রতে কিশোর বয়স থেকেই বিভিন্ন কাপড়ের দোকানের ক’র্মচারীর কাজ করছিলেন নয়ন।

বেতনের পুরো টাকা তিনি মায়ের হাতেই তুলে দিতেন। এর পরও তার মা পরিচিতদের কাছ থেকে ধা’রদেনা করতেন। সেই দেনাও শোধ করতে হতো নয়নের বাবাকে। শৈশব থেকেই নয়ন ও তার দুই বোন তাদের মায়ের প’রকীয়ার বি’ষয়টি জানতেন। বাবার কথা ভেবে তাদের অনেক ক’ষ্ট হতো। বাবার মতো তিনিও পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে এত দিন চুপ ছিলেন।

রিপনকে ছু’রিকাঘাত ক’রার ঘটনা প্রসঙ্গে ডি’বিকে নয়ন জানান, সেদিন দুপুরে তার মা’য়ের সঙ্গে দেখা করতে বাসায় আসে’ন রিপন। নয়ন তখন ঘরেই ঘুমে ছিলেন। তার বাবা পানি আ’নতে বাইরে গিয়েছিলেন। এ সময় অ’নৈতিক সম্পর্কে জ’ড়িয়ে পড়েন পারভীন ও রিপন। নয়নের ঘুম ভে’ঙে যায়। তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এ কারণে ন’য়নকে মা’রধর করেন রিপন। পা’রভীন তখন রি’পনের পক্ষ নেন।

পরে নয়নের বাবা বাসায় এসে পুরো ঘট’না জানতে পারেন। এমন প’রিস্থিতিতে প্রতিবেশী ও স্বজনরা এগিয়ে আসেন এবং নয়ন ও রিপনের মধ্যে মি’টমাট করে দেন। তবে নয়ন তা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। এর পর স’ন্ধ্যায় নয়নের বাবা তার রি’কশায় করে রিপনকে এগিয়ে দিতে যান। এ সময় চলন্ত রি’কশার আরোহী রিপনের বুকে ছু’রিকাঘাত করে পা’লিয়ে যান নয়ন।

ডি’বি সূত্র জানায়, নয়ন জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, রিপনকে ভ’য় দেখাতে ছু’রিকাঘাত করেছিলেন তিনি। খুন করার কোনো ইচ্ছে তার ছিল না। এ কারণেই ছু’রিকাঘাত করে পা’লিয়ে যান। তবে রিপ’নের বুকের স্প’র্শকাতর স্থানে আ’ঘাতটি লাগায় তার মৃ’ত্যু হয়। এ ঘ’টনায় রি’পনের ভাই নাজমুল হক পল্লবী থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা করেছেন। রিপন কারওয়ানবাজারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পিয়ন হিসেবে ক’র্মরত ছিলেন। তার গ্রা’মের বাড়ি নো’য়াখালীর বেগমগঞ্জে।bd24live