ধর্মমন্ত্রী হতে আল্লামা শফীর দরবারে তদবির নদভীর

সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০ ২:১৩ পূর্বাহ্ণ

আল্লামা শফীর দরবারে তদবির নদভীরঃ আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় রদবদল হচ্ছে- এটা পুরনো খবর। যেকোন সময় মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে যে, জাতীয় সংসদ অধিবেশনের আগেই রদবদলের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু কিছু

বাস্তবতার কারণে এই রদবদল পিছিয়ে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, জাতীয় সংসদ অধিবেশনের পরপরই এই রদবদল হবে। প্রধানমন্ত্রী এই রদবদলের খুঁটিনাটি কাজগুলো সম্পন্ন করছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। অন্যান্য রদবদলগুলো কী হবে না হবে তা অনিশ্চিত হলেও একটি বিষয় নিশ্চিত

যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে একজন নতুন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বসানো হবে। কারণ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ করোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যুবরণ করার পর ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এই কারণেই ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বা ধর্ম মন্ত্রী হওয়ার লড়াই জমে উঠেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে

দেনদরবার এবং তদবির করছেন। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী ধর্ম মন্ত্রী হওয়ার জন্যে আল্লামা শফীর কাছে দেনদরবার করছেন বলেও জানা গেছে। তার আল্লামা শফীর সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লামা শফীর আশ্বাসে

আবু রেজা নদভী মন্ত্রী হতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চিত। তবে মন্ত্রিত্বের এই লড়াইয়ে চেষ্টা-তদবির করছেন চট্টগ্রামের আরেক এমপি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীও। তিনি তরিকত ফেডারেশনের নেতা। তিনিও মন্ত্রিত্ব পাওয়ার জন্যে বিভিন্ন স্থানে তদবির করছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ঝালকাঠি থেকে নির্বাচিত

বজলুল হক হারুণও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব পেতে আগ্রহী। বর্তমানে তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন তা চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের

নির্বাচনের পর ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনা একটি চমকের মন্ত্রিসভা দেন। যে মন্ত্রিসভায় তিনি হেভিওয়েট সকলকে বাদ দেন। ২০১৪-এর কয়েকজন মন্ত্রী এবং নতুনদের নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন তিনি। করোনা স’ঙ্কটের পর এই মন্ত্রিসভার অনেকের বি’রুদ্ধেই ব্য’র্থতা আর অযোগ্যতার অ’ভিযোগ উঠেছে। এর

প্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরণের রদবদল হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বড় ধরণের রদবদল হবে নাকি ছোটখাট রদবদল হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে যে, সরকার তার অর্থনৈতিক গতিকে সচল করতে চায় এবং করোনা পরবর্তী বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চায়। এ কারণে

মন্ত্রিসভায় একটি বড় ধরণের রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বড় ধরণের রদবদলে শেষ পর্যন্ত কারা থাকবেন কারা বাদ যাবেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মাঝে জল্পনা-কল্পনা চলছে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্য স্থান পূরণ, উপকমিটি এবং অংগসহযোগী সংগঠনগুলো ঢেলে

সাজানোর পাশাপাশি মন্ত্রিসভাতেও একটি বড় রদবদল হতে পারে এবং এই রদবদলের মাধ্যমেই সরকার একটি নতুন বার্তা দিতে পারে যে গত ৬ মাসে যে ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে ধীরগতি হয়েছে তা পুষিয়ে ফেলতে চায়। তবে আওয়ামী লীগের একজন এমপি যখন হেফাজতের হুজুরের কাছে ধর্মমন্ত্রী হওয়ার জন্যে তদবির করেন তখন তা আওয়ামী লীগের অনেক নেতার মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। banglainsider