তেল কি আসলেই চুলের খাবার? আসুন সত্যটা জেনে নেই

রবিবার, আগস্ট ৪, ২০১৯ ৬:৫৮ অপরাহ্ণ

ঝলমলে স্বাস্থ্যজ্জল চুল কে না চায়? চুলের বিশেষ যত্ন নিতে অনেকেই পার্লারে যান। খরচ করেন হাজার হাজার টাকা। কিন্তু ফলাফলটা কি হয়? সত্যি কি মেলে স্বাস্থ্যজ্জল চুল। হয়তো মেলে, হয়তো মেলে না। কিন্তু আপনি জানেন কি, ঘরেই বসেই আপনি পেতে পারেন ঝমললে চুল। এজন্য আপনার চুলে তেল দিতে হবে।

আমাদের শরীরের জন্যে যেমন খাদ্যের প্রয়োজন আছে তেমনি চুলের খাদ্য হলো তেল। তবে ফ্যশন সচেতন নারীপুরুষও চুলে তেল দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলাফল চুল ঝরা, মাথায় টাক পরা কিংবা ফিনফিনে পাতলা অপুষ্ট চুল।

তেল নিয়ে অনেকেরই বিভিন্ন মতামত আছে। কেউ বলেন তেল দিলে চুল বেশি ঝরে। আবার কেউ বলেন তেলে হয় মাথা ব্যথা। মুল বিষয়টা হলো কোন তেল আপনার চুলের জন্যে উপযুক্ত সেটি বুঝতে হবে।

চুলের জন্যে বাজারে হরেক রকম তেল পাওয়া যায়। যেমন- নারিকেল তেল, বাদাম তেল, জলপাই তেল, কালিজিরা তেল, অ্যাভোকাডো তেল, তিলের তেল ইত্যাদি। খাবার যেমন আপনি বেছে বেছে গ্রহণ করেন. তেমনি তেলের বিষয়টিও জেনে বুঝে ব্যবহার করলে সাধারণ সমস্যাগুলো থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

কোন তেল ব্যবহার করবেন?

১। যেকোনো চুলের জন্যে চোখ বন্ধ করে ব্যবহার করতে পারেন জোজোবা, বাদাম অথবা আমলকির তেল। এ জাতীয় তেল খুব হালকা হয় ফলে চুল পড়ার প্রবণতা কমে।

২। শুষ্ক প্রাণহীন চুলের জন্যে নারকেল তেল সেরা। এছাড়া তিল, সরিষার তেলও বেশ উপকারী।

৩। তৈলাক্ত চুলের জন্য জলপাই তেলে উপকার পাবেন।

৪। খুশকির সমস্যা থাকলে টি ট্রি অয়েল বা চা গাছের নির্যাস থেকে প্রস্তুত তেলে উপকার হবে। যেকোনো সুপার শপে এই সব ধরনের তেল পেয়ে যাবেন ।

তেলের উপকারিতাঃ

নানি-দাদিদের আমলে নিয়মিত তেল ব্যবহারের নিয়ম ছিল। এই নিয়মের বেশ কিছু উপকারিতাও আছে। যেমন-

১। চুলের অকালপক্বতা প্রতিরোধঃ বর্তমানে বয়স ২৫ এর কোঠা না পেরতেই চুলে পাক ধরে। আগের যুগের মানুষের কিন্তু এই সমস্যা ছিলো না। চুলের জন্য বানানো তেলে ভিটামিন বি১২ থাকে। যা নিয়মিত ব্যবহারে চুলের অকালপক্বতা প্রতিরোধ হয়।

২। খুশকি দূরঃ তেল চুলের স্বাভাবিক আদ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে তাই এতে শুষ্ক তালু থেকে সৃষ্ট খুশকিও প্রতিরোধ হয়।

৩। মজবুত ও ঝলমলে চুলঃ আপনার স্বাস্থ্য বোঝা যায় আপনার ত্বক দেখে। তেমনি চুলের পরিস্থিতি বোঝা যায় চুলের স্বাস্থ্য দেখে। নিয়মিত তেল দিলে চুল তার দৈনন্দিন খাদ্য পায় এবং মজবুত ও ঝলমলে হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।

৪। লম্বা ও ঘন চুলঃ ঘন কালো লম্বা চুল শুধু স্বপ্ন দেখলেই পাওয়া যায় না। এর জন্যে চুলকে দিতে হয় সঠিক পুষ্টি।

৫। মানসিক শান্তিঃ প্রতিদিনের দৌঁড়ঝাপের পর বাসায় এসে মাথায় তেল দিয়ে দেখুন। সারাদিনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে নিমেষে

তেল ব্যবহারের খুঁটিনাটিঃ

চুলের জন্যে তেলের উপকারিতার কথা তো অনেক হলো। এবার জানা যাক তেল ব্যবহারের ছোট্ট কিছু টিপস। যা আপনার চুলের যত্নে এনে দেবে আমুল পরিবর্তন।

১। তেলের উপকারিতাকে দ্বিগুণ বৃদ্ধির জন্যে তেলকে একটু গরম করে নিন।

২। চুলকে ভাগ ভাগ করে গোঁড়ায় পৌঁছে দিন তেল। তবে সরাসরি নয়, আঙ্গুলের ডগায় তেল নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করুন।

৩। মাথার তালুতে নখ লাগাবেন না।

৪। ১৫-২০ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করবেন।

৫। চুল ঝরার সমস্যা না থাকলে তেল দেওয়ার পর স্টিম নিতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘরোয়া ভাবে স্টিম নেয়ার জন্যে গরম তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন। খুশকির সমস্যা থাকলে স্টিম বেশ কার্যকর।

৬। চুলে তেল দিয়ে সারারাত রেখে দেওয়া ভালো। তবে তা সম্ভব না হলে অন্ততপক্ষে ১ ঘণ্টা তেল মাথায় রাখবেন।

৭। রোজ তেল দেওয়া না হলেও সপ্তাহে একদিন তেল দেওয়া অভ্যাস করে ফেলুন। ব্যাস! ঝলমলে স্বাস্থ্যজ্জল চুল আপনার মাথায় শোভা পাবে।