ছোট্ট তুবার যে কথায় কাঁদলেন ব্যরিস্টার সুমন

শুক্রবার, জুলাই ২৬, ২০১৯ ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

মাকে ফোন দাও, চিপস আনবে- তাসনিম মাহিরা তুবা। বয়স সবে চার। এই বয়সে আর পাঁচটা শি’শুর মতো মায়ের কোলে বড় হওয়ার কথা ছিল তুবার। কিন্তু একটি গুজব (ছেলে ধ রা) শেষ করেছে দিয়েছে তুবার রঙ্গিল দিনের স্বপ্ন। মাকে ছাড়াই এখন বাকি জীবনটা পার করতে হবে তাকে।

হাজারো লোকের ভালোবাসা পেলেও আর কখনো মায়ের ভালোবাসা ফিরে পাবেনা তুবা। কারণ তার মা (তাসলিমা বেগম রেণু) পাড়ি জমিয়েছে না ফেরার দেশে। ছোট্ট তুবা এখন বুঝতে শেখেনি বাস্তবতা। শি’শুটি জানেনা তার মা কোথায়। তুবা জানে তার মা তার জন্য চিপস আনতে বাইরে গেছে। তার বিশ্বা’স কিছু সময় পরেই মা ফিরে আসবে।

কিন্তু দীর্ঘ ছয়দিনেও মা ফিরে না আসার তুবার মেজাজ ভালো যাচ্ছে না। সবকিছু নিয়ে বায়না ধরছে শি’শুটা। কোন কিছু একটু এদিক সেদিক হলেই চি’ৎকার, কা’ন্না-কাটি জুড়ে দিচ্ছেন বার বার। ভাইয়ের সঙ্গে খেলার মাঝে মাঝে তুবা ফিরে আসেন পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে। বলেন, ‘মাকে ফোন দাও, চিপস আনবে’। তুবার এই রকম আবদারে ব্যরিস্টার সুমন বলেন, আমি তখন ভাষা হাড়িয়ে ফেলেছি তুবাকে কি করে বলবো যে ওর মা নেই। আমি নিজেই তো কান্নায় ভেঙ্গে পরার অবস্থা কিন্তু কি করবো আমি কাদলে যে মামনিঅ কাদবে।

ছয় দিনে তুবার সাথে যারাই দেখা করতে এসেছে প্রত্যেকে তুবার ছবি তুলেছে। এখন আর তুবা ছবি তুলতে চায় না। কারো হাতে মোবাইল বা ক্যামেরা দেখলেই তুবা বলে ওঠে আমি ছবি তুলব না।

গত রোববার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজে’লার সোনাপুর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাসলিমাকে দাফন করা হয়েছে। মায়ের দাফন শেষে তাহসিন ও তাসনিম তুবা দুই ভাই-বোন নানির বাসায় এসেছে। তুবা ও তার মা এই বাড়িতেই থাকতেন মায়ের সঙ্গে। তার ভাই থাকতেন বাবার সাথে গ্রামে।

তাসলিমা বেগমের মা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা একমাত্র ভাই ও অন্য চার বোন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাসলিমা বেগমের দুই ছেলে-মেয়েকে তাঁদের কাছে রাখবেন, পড়া-শোনা করাবেন। উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন তাসলিমা বেগম রেণু।

ছেলেধ রা স*ন্দেহে তাকে পি.. টিয়ে হ.. ত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় তাসলিমা’র বোনের ছেলে সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থা*নায় অ’জ্ঞাতনামা চার শ থেকে পাঁচ শ মানুষকে আ সা মি করে মা’মলা করেন। নি হ ত তাসলিমা’র বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে।

ঢাকার মহাখালীতে চার বছরের মেয়ে ও মাকে নিয়ে থাকতেন তাসলিমা। দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১১ বছরের এক ছেলেও আছে নি হ ত তাসলিমা’র। সুত্র-বি ডি ২৪ লাইভ।