ছে’লেধরা নয়, যে কারনে সজীবের মা’থা কা’টেন রবিন…

বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

নেত্রকোনায় শিশু সজীবকে বলা’ৎকারের পর গলা কে’টে হ’ত্যা করে রবিন। প্রতিবেশীর ছেলে সজীবকে ফু’সলিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের তিনতলার একটি কক্ষে নিয়ে বলা’ৎকার করা হয়। পরে ভয় ও আত’ঙ্কে গলা কে’টে হ’ত্যা করে শিশুটির মাথা ব্যাগে নিয়ে মদ খেতে যায় রবিন।

শিশু সজীবের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়া। নেত্রকোনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান তিনি।

ডিআইজি আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, পদ্মা সেতুতে মা’থা লাগবে এটা গু’জব। যারা এ ধরনের গু’জব ছড়াচ্ছে তারা দেশে অস্থি’তিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গু’জব সৃ’ষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে (১৮ জুলাই) সজীবের (৭) কাটা মাথা ব্যাগে নিয়ে ঘোরাফেরা করার সময় নেত্রকোনা শহরের নিউ টাউন এলাকায় জনতার হাতে ধরা পড়ে গণ’পিটু’নিতে নি’হত হয় রবিন।

নিহত রবিন শহরের পূর্ব কাটলি এলাকার এখলাছুর রহমানের ছেলে। সে মাদ’কাসক্ত ছিল। গ’লা কে’টে হত্যার শিকার শিশু সজীব একই এলাকার রিকশাচালক রইছ উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় এ দুটি মামলা হয়।

শিশু সজীব মিয়া হ’ত্যা’ মাম’লার বাদী বাবা রইছ উদ্দিন। গণ’পিটুনিতে নি’হত রবিন মিয়ার মামলায় অজ্ঞা’তদের আসামি করা হয়। রবিনকে হ’ত্যার ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের এসআই রফিক বাদী হয়ে মা’মলা করেন।

বুধবার জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে শিশু সজীবকে ব’লাৎকা’রের পর হ’ত্যা করা হয়। তবে পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেও এ হ’ত্যা’কাণ্ড ঘটতে পারে। এ নিয়ে আ’তঙ্কি’ত হওয়ার কিছু নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছেলেধরা ও পদ্মা সেতুতে মাথা দরকার গু’জব ছড়ানোর কারণে জনমনে বিভ্রা’ন্তির সৃষ্টি হয়েছে। যারা এমন মনগড়া ও অসত্য তথ্য দিয়ে প্রচারণা চলানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে।

পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী আরও বলেন, রবিন মিয়া মা’দকা’সক্ত ছিল। তার নামে একাধিক মা’মলা রয়েছে। রবিনের জব্দকৃত মুঠোফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ’ত্যার আগে শিশু সজীবকে বলাৎকার করে রবিন।

পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়া, পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সীতাংশু বিকাশ আচার্য, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ফখরুজ্জামান জুয়েল প্রমুখ।