ছাত্রীকে বেশী নাম্বার দেয়ার কথা বলে জাবি অধ্যাপকের যৌ’ন নি’পীড়ন, ছাত্রীর আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯ ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌ’ন নি’পীড়নের অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। এই হয়রানির বিচার চেয়ে বিভাগীয় সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছেন তিনি। লিখিত এই অভিযোগ ‘ধামাচা’পা’ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে আত্মহ’ত্যার চেষ্টাও করেন ভুক্তভো’গী ছাত্রী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে যৌ’ন হয়রানির অভিযোগ ওঠা শিক্ষকের নাম সানোয়ার সিরাজ।তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। আর ভুক্তভো’গী ওই ছাত্রী একই বিভাগের ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি থাকেন প্রীতিলতা হলে। এই হলেই আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করেন।

নি’পীড়নের ঘটনার বিচার না পেয়ে এবং শিক্ষকের হু’মকিতে মানসিকভাবে প্রচণ্ডভাবে ভেঙে পড়েন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভো’গী ছাত্রী। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছাত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ২৬টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়।

জানা গেছে, হয়রানির ঘটনা উল্লেখ করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভো’গী ছাত্রী। ১৯ সেপ্টেম্বর ওই অভিযোগ করেন তিনি। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌ’ন নি’পীড়ন বিরোধী সেলে অভিযোগটি পাঠান বিভাগীয় সভাপতি।

বিভাগীয় সভাপতি বরাবর দেয়া অভিযোগপত্রে ভুক্তভো’গী ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘ভালো পরীক্ষা দেয়া সত্ত্বেও তৃতীয় বর্ষে সানোয়ার সিরাজের কোর্সে কম নম্বর পাই। ফলশ্রুতিতে আমি ওই কোর্স মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে চাই। আর এজন্যই আমি সানোয়ার সিরাজের শরণাপন্ন হই। এ সময় তিনি আমার মুঠোফোন নম্বর নিয়ে রাখেন। তিনি আমাকে বলে রাখেন, যেকোনো কারণে যেন যোগাযোগ করি।’

অভিযোগে ভুক্তভো’গী ওই ছাত্রী আরও উল্লেখ করেন, পরীক্ষার দিন (গত বছরের ১২ মার্চ) সানোয়ার সিরাজ ফোন করেন। পরীক্ষা কেমন হলো জানতে চান। এরপর ওই রাতেই তিনি আবারও ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেন এবং আমার সঙ্গে ঘোরাফেরা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। হঠাৎ করে তার এ ধরনের আচরণে আমি বিস্মিত হই।

পরবর্তীতে আমি বিভাগে গিয়ে তার কাছে জানার চেষ্টা করি যে, তার ফেসবুক আইডি হ্যা’ক হয়েছিল কিনা। কিন্তু তিনি নিশ্চিত করেন যে আইডি হ্যা’ক নয় বরং তিনিই এই মেসেজ দেন। এ সময় তিনি আরও বলেন যে, আমার প্রতি তীব্র শারীরিক আকর্ষণ বোধ করেন, আমার সঙ্গে সময় কাটাতে চান, ঘুরতে চান। আমি ধারাবাহিকভাবে সানোয়ার সিরাজের এমন আচরণে খুব বিব্রত ছিলাম ফলে বারবার ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করছিলাম। কিন্তু তিনি রেগুলার আমাকে উ’ত্যক্ত করে যাচ্ছিলেন। আমি এ ঘটনার জন্য সানোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ইচ্ছা পোষণ করি। কিন্তু আসন্ন স্নাতকোত্তর পরীক্ষার কারণে এই মুহূর্তে অভিযোগ না দেয়ার জন্য অনেকে আমাকে পরামর্শ দেন।

এ অবস্থায় আমি সানোয়ারের আচরণে হতাশ হয়ে পড়ি। পরবর্তীতে তিনি আমাকে আবার কল করে ড্রেস গিফট করা, ঢাকা এবং সাভারের রেস্টুরেন্টে খাওয়া, রাতে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া এবং স্ত্রীর অনুপস্থিতে তার বাসায় রাত যাপন করার প্রস্তাব দেন। এ সময় তিনি আরও কিছু অ’শালীন কথাবার্তা ও কু’প্রস্তাব দেন। আমি তার ধারাবাহিক অ’ত্যাচারে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং একাধিক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হই। অভিযোগে ওই ছাত্রী আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে সানোয়ার সিরাজের যৌ’ন নি’পীড়নমূলক কথাবার্তা, ফোন কল রেকর্ড ও মেসেঞ্জারের চ্যাটের প্রমাণ বিভাগের তৎকালীন সভাপতি খন্দকার সামসুন্নাহারের কাছে হস্তান্তর করি। কিন্তু এর কারণে পরবর্তীতে একটি অনুষ্ঠানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আমার ওপরে চড়াও হন খন্দকার শামসুন্নাহার এবং তিনি আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভো’গী শিক্ষার্থী বলেন, মহিলা পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে আমি আমার হয়রানির কথা জানাই। কিন্তু এসব শুনে বিভাগের সাবেক সভাপতি খন্দকার শামসুন্নাহার আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন যাতে বিভাগে লিখিত অভিযোগ না নিয়ে যাই। আমি পরে তাকে কিছু বিষয় শেয়ার করি। তিনি আমাকে সহানুভূতি জানিয়ে এসব ভুলে গিয়ে ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিতে বলেন। বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে তিনি এসব গোপন রাখার কথা ছিল। কিন্তু এসব শিক্ষকদের মধ্যে ভাইরাল করে দেন। এর মধ্যে আমার পরীক্ষা। আমি আসলে আর লড়াই করতে পারছিলাম না। অভিযোগের বিষয়ে বিভাগের সদ্য সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সামসুন্নাহার খানম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমার বিরুদ্ধে যা বলছে তা বানিয়ে বলছে। এসব মিথ্যা, বা’নোয়াট।

এদিকে সানোয়ার সিরাজের ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভো’গী ছাত্রীর মেসেঞ্জারে পাঠানো আপত্তির ক্ষুদে বার্তার স্ক্রিনশটও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অভিযুক্ত সানোয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে এর আগেও তার স্ত্রী একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে ‘অ’নৈতিক’ সম্পর্কের অভিযোগ এনেছিল। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার সিরাজ বলেন, ওই ছাত্রী কি অভিযোগ করেছেন তা আমি জানি না। আদৌ আমার নাম উল্লেখ করেছেন কিনা সেটিও আমি জানি না। তাই এ বিষয়ে আমার বক্তব্য দেয়া ঠিক হবে না।somoyerkonthosor