ছাত্রলীগকে নষ্ট করছে আওয়ামী লীগ নেতারাই

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ

ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নয়, বরং তৃনমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের এ বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী মূলত ছাত্রলীগকে সুশৃঙ্খল এবং কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে তিনি তিন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রথমত, তিনি বর্তমান ছাত্রলীগ কমিটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবেন। যারা দলের ত্যাগী পরীক্ষিত এবং যাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। যারা মেধাবী ছাত্র তাদের নেতৃত্বের সামনে আনবেন।

দ্বিতীয়ত, যত শীঘ্রই সম্ভব ছাত্রলীগের কমিটি গোছানোর পর তিনি সংগঠনটির একটি নতুন সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দিবেন।

তৃতীয়ত, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হবে। যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে অন্তত ৫ ধরনের অভিযোগ এসেছে। এই সব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:

১. অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠন।

২. দলের আদর্শ বিবর্তিত জামাত- বিএনপি- ছাত্রশিবির- ছাত্রদল থেকে আসা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে জায়গা দেওয়া।

৩. নারী ঘটিত অপকর্ম।

৪. টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

৫. সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কোন মনোযোগ না দেওয়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এছাড়াও ছাত্রলীগের যারা সত্যিকারের ত্যাগী-পরীক্ষিত কর্মী এবং যারা আদর্শের কারণে ছাত্রলীগ করে তাদেরকে বর্তমান নেতৃত্ব কোনঠাসা করেছে এমন অভিযোগ এসেছে। তাছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাদের অনুপস্থিতি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাদের অনাগ্রহ প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আর এইজন্য ছাত্রলীগের ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তাদের মতামত নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে মূলত প্রধানমন্ত্রী বর্তমান ছাত্রলীগে যারা কাজ করছে এবং যারা ত্যাগী পরীক্ষিত এবং যাদের বিরুদ্ধে কোন বদনাম নেই তাদের একটি তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রলীগের ভালো সৎ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে তালিকা দিয়ে সহায়তা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা অবহেলিত অপাংক্তেও হয়ে আছে। যারা মেধাবী কিন্তু দলের জন্য কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না- এরকম কিছু ছাত্রলীগ কর্মীকে গণভবনে ডেকে নিবেন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং দলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ছাত্রলীগের কার্যক্রম বন্ধ নয়, বরং ছাত্রলীগকে যেন একটি নিষ্কলুষ সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করানো যায় সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, প্রধানমন্ত্রী এবার ছাত্রলীগের ব্যাপারে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী নন। কারণ তিনি মনে করছেন, যাদেরকেই বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারাই ছাত্রলীগকে নিজের পকেটস্থ সংগঠন হিসেবে পরণত করার জন্য চেষ্টা করেছে।

তাদের নিজস্ব গ্রুপের লোকজনকে নেতৃত্বে এনেছে যার ফলে এই সমস্যাগুলো তৈরী হয়েছে। এজন্য গতবার কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী চারজন নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন কিন্তু এই চারজন নেতা দায়িত্ব পালনে কতটুকু সফল হয়েছে সে প্রশ্ন উঠেছে। কাজেই প্রধানমন্ত্রী এবার ছাত্রলীগের দায়িত্ব অন্য কাউকে দিতে চান না। ছাত্রলীগের পুরো বিষয়টি তিনি এককভাবে দেখভাল করতে চান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমনকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও ছাত্রলীগের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রাণের সংগঠন। তিনি নিজে এক সময় ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন। এই সংগঠনের ব্যাপারে তার একটি আবেগ এবং অনুভূতি কাজ করে। এজন্যই তিনি ছাত্রলীগের দায়িত্ব অন্যদেরকে দিয়ে আগের মতো পরিস্থিতি তৈরী করতে চান না।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার