চাঞ্চল্যকর তথ্য : সাহেদের টাকার ভাগ কারা পেত?

রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২০ ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ

প্রতারক সাহেদকে এখন র‍্যাবের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাঁকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই জিজ্ঞাসাবাদে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সাহেদ প্রতারণার মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন, সেই অর্থ সম্পদগুলো সাহেদ একা ভোগ করেনি। বরং প্রশাসন এবং রাজনীতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সাহেদের টাকার ভাগ পেত। সাহেদ নিয়মিত তাঁদেরকে হিস্যা দিতেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সাহেদের প্রতারণার জাল সর্বব্যাপী বিস্তৃত ছিল। শুধু যে রিজেন্ট হাসপাতালের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা করেছে তা না, বরং এটা ছিল প্রতারণার একটি ক্ষুদ্র অংশ। সাহেদ নানাভাবেই প্রতারণা করতো এবং প্রতারণাই ছিল তাঁর মূল ব্যবসা। এই সমস্ত প্রতারণায় সে প্রায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করতো এবং একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে যে নিয়মিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেত সাহেদ। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা খুঁজে দেখছে যে, কারা সাহেদকে পাস দিতো এবং কাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সাহেদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেত।

একাধিক সূত্র বলছে যে, সাহেদের সঙ্গে যাঁদের সম্পৃক্ততা রয়েছে তাঁরা সাহেদের অপকর্মের অংশীদার। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, রিজেন্ট হাসপাতালের বাইরে সাহেদ নিয়োগ বাণিজ্য করতো, সাহেদ ব্যাংক থেকে প্রভাব খাটিয়ে লোন নিয়েছিল, যা পরিশোধ করেনি। সাহেদ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিত। আর এই সমস্ত প্রতারণা একা ব্যক্তি সাহেদের পক্ষে করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

তাঁরা মনে করছে, কিছু ব্যক্তি বুঝে না বুঝে সাহেদকে মদদ দিয়েছে, সাহেদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সাহেদ মিডিয়ার পেছনে প্রচুর অর্থ খরচ করতো যেন তাঁকে টক শোতে নেওয়া হয়। টক শোতে অংশগ্রহণের জন্যে সাহেদের আলাদা বাজেট ছিল এবং টক শোতে গেলে টাকা পাওয়া যায়- কথাটি সাহেদের বেলায় ছিল উল্টো।

যারা তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতেন সাহেদ তাঁদেরকে ‘খুশী’ করে দিতেন। যে সমস্ত প্রভাবশালীরা সাহেদকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে, সাহেদের নাম পরিবর্তনের জন্যে প্রভাব বিস্তার করেছে বা রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করার জন্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তার করেছে তারাও সাহেদের এই প্রতারণার টাকার ভাগ পেতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ শুধুমাত্র সুসম্পর্কের ভিত্তিতে সাহেদের জন্যে তাঁরা তদবির করবেন এটা হতে পারে না।

ইতিমধ্যেই জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক দুজন কর্মকর্তা সাহেদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন এবং এদের একজন সাবেক স্বাস্থ্যসচিব আসাদুল ইসলামকে টেলিফোন করেছিলেন এবং টেলিফোনে রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করার ব্যাপারে অনুরোধ করেছিলেন। ঐ কর্মকর্তার অনুরোধেই তৎকালীন সচিব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওএসডি হওয়া পরিচালক (হাসপাতাল) আমিনুল ইসলামকে টেলিফোন করেন এবং রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করার অনুরোধ করেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, ২০১৬ সালে সাহেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর বিরুদ্ধে চিঠি দিয়েছিল। সেই সময় সাহেদ নতুন নাগরিক পরিচয় পত্র বের করেন এবং নতুন পরিচয় পত্র বের করার ক্ষেত্রেও একজন সচিব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং সেই সচিব নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পালন করতেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মজার ব্যাপার হলো যে, রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে যখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তি হয়, তখন সেই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেই প্রভাবশালী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। তিনি কি কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়েছিলেন সেটাও একটি বড় প্রশ্ন। যদিও বলা হচ্ছে যে, একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বৈঠক সংক্রান্ত কাজের জন্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সচিবদের যাওয়া একটি বিরল ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এই ধরণের বৈঠকে সাধারণত যুগ্ন সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকেই প্রেরণ করা হয়।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে যে, সাহেদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে, এটা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। সাহেদ যে তথ্যগুলো দিচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর এবং অনেককে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করছে। পুরো বিষয়গুলোই যাচাইবাছাই করা হচ্ছে এবং সাহেদের প্রতারণার উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। যারা তাঁর প্রতারণার ভাগিদার তাঁদেরকেও চিহ্নিত করা হবে।bangla insider