ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পেলেই কেন বড় জাহাজ গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়?

বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২০ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

বাতাসের গতি কিংবা ঢেউয়ের তীব্রতা সবদিক থেকেই বিরল এক ঘূর্ণিঝড় ছিল সুপার সাইক্লোন আম্পান।বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে ক্ষান্ত হয়।তবে এত শক্তিধর আম্পানকেও হার মানতে হয়েছে রয়েল বেঙ্গলের গর্ব সুন্দরবনের কাছে।

অন্যান্য বারের মতো এবারও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে মঙ্গলবার (১৯ মে) বন্দরের জেটিতে থাকা ১৯টি জাহাজকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভ্যাসেলগুলো (বড় জাহাজ) পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে কক্সবাজার উপকূলের গভীর সাগরে। মাঝারি আকারের জাহাজ পাঠানো হয়েছে সাগরের কুতুবদিয়া অংশে।এই মুহুত্তে জাহাজ বন্দরে ফিরতে শুরু করেছে

আবহাওয়া অফিস বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত দেখালেই বন্দরের জেটিতে থাকা বড় বড় জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেয়। অন্যদিকে ছোট ছোট জাহাজ, ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়। সাধারণ মানুষের কাছে বড় জাহাজকে বিপদের সময় গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেয়া ‘অমানবিক আচরণ’ মনে হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ কাজটি করে জাহাজের নিরাপত্তা ও ক্ষতি কমানোর জন্য।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টা থেকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে দেখাতে বলা হয়েছে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমানজ বড় জাহাজ সাগরে পাঠানো প্রসঙ্গে জানান, অনেকের মনে আছে ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর মাঝখানের একটি অংশ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল একটি বড় জাহাজ।

এটি একটি অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি জেটিতে বাঁধা বড় জাহাজগুলো প্রচণ্ড ঝড়ে রশি ছিঁড়ে একটি আরেকটির ওপর আছড়ে পড়লে, ধাক্কা দিলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে। বন্দর চ্যানেলে যদি কোনো জাহাজ ডুবে যায় তবে বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সবচেয়ে বড় কথা মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) হচ্ছে

কৃত্রিম বা প্রটেকটেড হারবার না থাকলে বড় জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে আছে ন্যাচারাল হারবার, এটি প্রকৃতির দান।তথ্য সূত্র:সময় টিভি