কে হচ্ছেন হেফাজতের আমীর আল্লামা শফীর উত্তরসূরী ? সিদ্ধান্ত আজই

বুধবার, জুন ১৭, ২০২০ ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ

হেফাজতে ইসলামীর আমীর ও দারুল উলুম মাদ্রাসার বর্তমান মোহতামিম (মহাপরিচালক) আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উত্তরসূরী কে হবেন, তা নিয়ে গত কিছুদিন ধরে চলছে চা’পা উ’ত্তে’জনা। এ নিয়ে দ্ব’ন্দ্ব সং’ঘাতেরও খবর পাওয়া গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মাদ্রাসার শুরা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টায়। যে কারণে এই বৈঠক নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে, সেটি হচ্ছে— এই বৈঠকেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উত্তরসূরী।

এই বৈঠকের ওপর তাই সারা দেশের অনেকেরই নজর। এমনকি সরকারের শীর্ষ মহলেরও নিবিড় নজরদারি রয়েছে এই বৈঠকটি নিয়ে। শুধু তাই নয়, বৈঠকটি ঘিরে যে কোনো অ’প্রী’তি’কর অবস্থার আ’শ’ঙ্কা’য় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনই শুধু নয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ৭ জুন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন। আটদিন পর সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন। এরপরই তিনি দারুল উলুম মাদ্রাসার শুরা কমিটির বৈঠক আহ্বান করেন। মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সিদ্ধান্ত হয় এই শুরা বৈঠকেই। এমনকি মাদ্রাসার মোহতামিম (মহাপরিচালক) নির্বাচনের ভারও এই শুরা কমিটির ওপরই।

শতবর্ষী প্রবীণ আলেম আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। দীর্ঘদিন ধরেই আল্লামা শফী প্রায়ই অসুস্থতার মধ্যে পড়ায় মাদ্রাসার কাজে গতি আনতে মোহতামিম (মহাপরিচালক) নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে অনেকের অভিমত।

তবে গত মাসের মাঝামাঝিতে মোহতামিম (মহাপরিচালক) নির্বাচন প্রশ্নে হঠাৎ আল্লামা শফী ও মাদ্রাসার মুঈনে মোহতামিম (সহকারী পরিচালক) আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীরা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। আল্লামা শফীর অসুস্থতার কারণে একটি পক্ষ মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ঘোষণা করলে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১৭ মে আল্লামা শাহ আহমদ শফী এক ভিডিও বার্তায় এসে জানান— ‘আমি দায়িত্বে আসার পর থেকে এই মাদ্রাসার জন্য কী করেছি না করেছি, সব মানুষের জানা আছে। ভিত্তিহীন কিছু কিছু অ’প’বাদ দেয়া হচ্ছে। সারাটা জীবন মাদ্রাসার জন্য নিজের জীবনকে কোরবান করে দিয়েছি। কাউকে নায়েবে মোহতামিম অথবা জিম্মাদার করে দিইনি। যা কিছু করার মাদ্রাসার জন্য সব মজলিসে শূরা করবে।’

হাটহাজারীর ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মাদ্রাসার শুরা কমিটি ১৭ সদস্যবিশিষ্ট। সর্বশেষ ১৫ বছর আগে, ২০০৫ সালে এই শুরা কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছিল। জানা গেছে, ১৭ সদস্যের ওই কমিটির ৬ জন সদস্য ইতিমধ্যে মৃ’ত্যু’বরণ করেছেন। বর্তমানে কমিটির সক্রিয় সদস্য মাত্র ১১ জন। এর মধ্যে ফেনীতে রয়েছেন একজন সদস্য। কক্সবাজারে আছেন দুজন সদস্য। তিনজন রয়েছেন ঢাকায়। এরা হলেন ঢাকার জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদ্রাসা পরিচালক ও হাইয়াতুল উলয়া কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, ফরিদাবাদ মাদ্রাসা নায়েবে মুহতামিম ও বেফাক যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি নুরুল আমিন, ঢাকার খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী।

অন্যদিকে শুরা কমিটিতে চট্টগ্রামের আছেন মোট পাঁচজন। এরা হলেন ফটিকছড়ির জামিয়া উবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নোমান ফয়জী, হাটহাজারীর ফতেপুর মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী, জামেয়া নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক মাওলানা সলিম উল্লাহ এবং হাটহাজারীর শিকারপুরের বাথুয়ার মাওলানা ওমর ফারুক চৌধুরী।

কয়েকটি সূত্র জানাচ্ছে, মোহতামিমের পরের স্থানেই রয়েছে মুঈনে মোহতামিম (সহকারী পরিচালক)। সেদিক থেকে আল্লামা শফীর উত্তরসূরী হিসেবে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এগিয়ে রয়েছেন। তবে তার ঘো’র বি’রো’ধী হলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ছেলে হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানী। তিনি চাইছেন, তার অনুগত কেউ ওই পদে আসুক। আবার সরকারের শী’র্ষ’মহলও বাবুনগরীকে ওই পদে দেখতে চাইছেন না।

এমন পরিস্থিতিতে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উত্তরসূরী হিসেবে শোনা যাচ্ছে দুজনের নাম। এরা হলেন হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা শেখ আহমদ এবং মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আহমদ দীদার কাসেমী।

দীদার কাসেমী সাবেক মুহতামিম মাওলানা আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে। আল্লামা শফীরও তার প্রতি পক্ষপাত রয়েছে বলে জানা যায়। দুজনের বাড়িই আবার হাটহাজারী। অন্যদিকে বাবুনগরীর বাড়ি ফটিকছড়িতে।

শোনা যাচ্ছে, আজকের বৈঠকে কেউ যদি ভারপ্রাপ্ত মোহতামিমও নিযুক্ত হয়ে যান। সেক্ষেত্রেও আল্লামা শফীকে সদর মোহতামিম হিসেবে সাম্মানিক পদে রাখা হতে পারে।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার