ওসি প্রদীপের জলসা ঘরের সন্ধান, পাওয়া গে’লো ভ’য়ংকর সব আ’লামত!

মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২০ ৫:২২ অপরাহ্ণ

পাওয়া গেলো ভ’য়ংকর সব আ’লামত-থানা থেকে পাঁচ মিনিটের রাস্তা। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের নাজিরপাড়া গ্রাম। এ গ্রামের নূর মোহাম্ম’দের বাড়িটি ছিল ওসি প্র’দীপের ‘জলসা ঘর’। মা’দকের আ’সর সহ অ’নৈতিক নানা কা’জের কেন্দ্র ছিল ওই বা’ড়িটি। শুধু কি এসব, এ বাড়িতে বসেই ওসি প্রদীপ মা’মলা নি’তেন। জো’র করে চে’কে স্বা’ক্ষর নেয়া, আ’সামি ধ’রা, ছা’ড়া এসব চ’লতো এ বাড়িতে।

এখানে থাকতেন ওসি প্রদীপের ঘ’নিষ্ঠ পু’লিশ স’দস্যরাও। ওই বাড়িটি স্থা’নীয়দের কাছে আরেক থা’না হিসেবেই পরিচিত। সাবেক সে’না কর্মক’র্তা মেজর সি’নহা হ’ত্যা ঘটনার পর ২রা আগস্ট রো’ববার সন্ধ্যায় থা’নার পু’লিশ সদ’স্যরা বাড়িটি ছেড়ে চলে যান। সঙ্গে করে নিয়ে যান বাড়ির ভে’তরের আসবাবপত্র। গতকাল স’রজমিন দুই ত’লাবিশিষ্ট বা’ড়িটিতে গিয়ে দেখা মি’লে থা’না প’রিচালনা ক’রার আ’লামত।

বাড়িটির নিচ তলায় হা’তের ডান পাশের কক্ষটিতে গিয়ে দেখা যায় মা’মলার অ’সংখ্য গুরুত্বপূর্র্ণ কা’গজপত্র। দু’তলায় গিয়ে দেখা মি’লে ম’দের বো’তল, ই’য়াবা খাওয়ার স’রঞ্জাম, পু’লিশ স’দস্যদের জু’তা, ম’দের বো’তল, ব্যাংকের খালি চেক, আ’র্মড পু’লিশের পো’শাকসহ পু’লিশ সদ’স্যদের থাকার নানা আ’লামত। অ’ভিযোগ রয়েছে, বাড়িটির মালিক মু’দি দোকানি নূর মোহাম্ম’দকে গত বছর দো’কান থেকে তুলে নি’য়ে ক্র’সফায়ার দে’য় টেকনাফ থা’না পু’লিশ।

নূর মোহাম্ম’দের স্ত্রী’ লা’য়লা বেগম অ’ভিযোগ করে বলেন, স্বামী নূর মো’হাম্ম’দকে গত বছর মা’র্চ মাসে বা’ড়ির পাশে দোকান থেকে ধ’রে নি’য়ে যায় টে’কনাফ থা’না পু’লিশ। পরে তাদের কাছ থেকে চ’ল্লিশ লাখ টাকা দাবি করেন পু’লিশ সদস্যরা। পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করে দি’লেও শেষ র’ক্ষা হ’য়নি আমা’র স্বামীর। তাকে তা’রা ক্র’সফায়ার দিয়ে দেয়। ঘট’নার দুই মাস পরে এখান থেকে আ’মাদের বে’র ক’রে দে’য়া হয়। বাড়ি থেকে আমাদের কিছুই নি’তে দে’য়া হয়নি। পরে ওসি প্রদীপ কুমা’রকে দ’লিল দে’খালে দ’লিলটিও তারা নিয়ে নেয়।

অ’ভিযোগ রয়েছে, নূর মোহাম্ম’দের স্ত্রী’ লায়লা বেগ’মকে তার দুই স’ন্তান সহ বাড়ি থেকে বের করে দেন ওসি। এরপর থেকে বাড়িটি দখলে নেন এই পু’লিশ কর্মক’র্তা। নিজের বাড়ি থাকতেও লায়লা বেগম মানুষের বাড়িতে বাড়িতে মা’নবেতর জী’বনযাপন করছেন। লা’য়লা বেগম বলেন, আমা’র স্বামীর বি’রুদ্ধে কো’নো মা’মলা ছিল না। তারপরও তাকে তারা বি’না কারণে মে’রে ফেলে। নূর মোহাম্ম’দের মা আবেদা খাতুন কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আজকে আমা’র ছে’লে নেই। ওসি প্রদীপ আমা’র ছে’লেকে মে’রে ফে’লেছে, টা’কাও নিয়েছে।

তখন যদি ব’লতো বাড়িটি দিয়ে দে’য়ার জন্য দিয়ে দি’তাম। কিন্তু আমা’র ছে’লেকে মা’রতে দি’তাম না। এখন খু’ব বিপ’দে আছি। ছে’লে বউ আর না’তিরা থাকার স’মস্যায় ভুগছে।’ এদিকে এই বা’ড়িটি ওসি প্রদীপের নি’র্যাতন সে’ল হি’সেবে পরিচিত ছিল। নি’রীহ মানুষকে টা’র্গেট করে ধ’রে নি’য়ে এসে এখানেই প্রথ’মে রাখা হতো তাদের। করা হতো নি’র্যাতন। তারপর তাদের সঙ্গে চ’লতো দেন-দ’রবার। টাকা না দিলে দে’য়া হতো ক্র’সফায়ার, দি’লেও দে’য়া হতো ক্র’সফায়ার। তবে সু’বিধা করতে না পারলে এই বাড়ি থেকে নিয়ে যাও’য়া হতো মূ’ল থা’নায়। পরে ই’য়াবা বা অ’স্ত্র দি’য়ে গ্রে’প্তার দে’খানো হতো।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সময় রা’তের বেলায় কা’ন্নার শ’ব্দ পে’তেন বাড়ির আ’শেপাশের লোকজন। তে’মন একজন এই এলা’কার বা’সিন্দা নাম প্রকাশ না করার শ’র্তে বলেন, বিশেষ করে মধ্য’রাতে অ’নেকের কা’ন্নার শব্দ আম’রা এখানে শু’নতাম। পু’লিশের গা’লাগালি শু’নতাম। কিন্তু ত’খন আম’রা ভ’য়ে কারো স’ঙ্গে কথা বলতাম না। এই বা’ড়ির আশেপাশেও কেউ যেতো না। ওসি প্রদীপ নি’য়মিত এ’খানে এসে অ’ফিস করতেন। আম’রা তা দে’খেছি। যখন তিনি আ’সতেন এলাকার মা’নুষ তখন ভ’য়ে থর’থর করে কাঁ’পতো। তার সা’মনে ভু’লেও কেউ পড়তেন না।

জানা গেছে, টেকনাফ থা’নার ওসি প্রদীপের একটি অ’পারেশন টি’ম ছিল। সেই টিমের সদস্যদের মূল আ’স্তানা ছিল ওই বা’ড়িটি। টিমের মধ্যে ছিল বেশ কয়েকজন এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল। তাদের মধ্যে এসআই স’ঞ্জিত দত্ত ছিল ওসি প্রদী’পের সে’কেন্ড ম্যান। সকল কিছুর দে’খভাল করতেন তিনি। দেন-দ’রবারও হতো তার মাধ্যমে। ওসির সঙ্গে সা’র্বক্ষণিক থা’কতেন এসআই রুবেল দাশ, ক’নস্টেবল সাগর দেব, এ’সআই মিঠুন ভৌমিক।

এই তিনজনকে নিয়ে চ’লতেন তিনি। টেকনাফ থা’নার শাহ্‌পরীর দ্বীপ পু’লিশ ফাঁ’ড়ির ইনচার্জ দিপক বিশ্বা’স ছিলেন ওসি প্রদী’পের ভা’গিনা। এসআই সুবির পাল, কাম’রুজ্জামান, মশিউর রহমান (হোয়াইক্যং ফাঁ’ড়ির) ই’নচার্জ। অ’ভিযোগ রয়েছে, তিনিই সবচেয়ে বে’শি ক্র’সফায়ার দি’য়েছেন টেক’নাফ থা’না এ’লাকায়। ওই বা’ড়িটির অন্যতম নি’য়ন্ত্রক ছিল এএসআই ফখরুল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভা’ষ্যমতে নূর মোহাম্ম’দের বাড়ির দা’য়িত্বে ছিলেন তিনি। তাকে সেখা’নকার ইন’চার্জ বলা হতো। বাকি সদস্যরা এই থা’নায় তাদের অ’পকর্মগু’লো ঘ’টাতো। আরো এ’কজন উল্লেখযোগ্য ছিল এসআই নাজিম। টেকনাফ থা’নার বিভিন্ন ফাঁ’ড়ির ই’নচার্জরা এখানে এসে যোগ দিতেন জ’লসায়। পু’লিশের বিভিন্ন অ’প’রাধমূ’লক কর্মকা’ণ্ডের বৈ’ঠক হতো এখানে। এসব বৈ’ঠকে যোগ দি’তেন এলাকার মা’দক কা’রবারিরা।

শুধু তাই নয়, অ’ভিযোগ রয়েছে, ক্র’সফায়া’রের যেসব গো’পনীয় তা’লিকা করা হতো সে’গুলোও হতো এখানে। প্রদী’পের এই জ’লসা ঘরে নি’র্যাতনের শি’কার হয়েছেন এমন এক’জন ভু’ক্তভোগী ফরিদা বেগম ওরফে কাজল। চলতি বছরের শুরুতে মা’দক চো’রাচালানের অ’ভিযোগে এই না’রীসহ তার ভাই আবদুর রহমান এবং স্বামী আবদুল কা’দেরকে আ’ট’ক করেছিলেন ওসি প্রদীপ কুমা’র দাস।

দুইদিন ওই বা’ড়িতে আ’ট’কে রে’খে নি’র্যাতনের পর ফরিদা বেগম ওরফে কা’জলকে ই’য়াবা দিয়ে কো’র্টে চা’লান দে’য়া হয়। তবে বাঁ’চতে পারেননি কাজলের ভাই আবদুর রহমান এবং কাজলের স্বামী আব’দুল কাদের। পু’লিশের হা’তে ধ’রা প’ড়ার প’ড়েও ক’থিত ক্র’সফায়ারে নি’হত হ’ন তারা।আ’রেক ভু’ক্তভোগী টে’কনাফের পু’রান প’ল্লান পা’ড়ার বেলুজা ও আমিনা খাতুন বলেন,

৫ই জুলাই দিনদুপুরে টেকনাফ থা’না পু’লিশের এএসআই নাজিমের নেতৃত্বে এ’কদল পু’লিশ ঘ’রে ঢুকে আ’মিসহ ঘরের লো’কজনকে ব্যাপক মা’রধর করে। এরপর আ’লমিরা ভেঙে দুই ভ’রি স্বর্ণ, দেড় লাখ টাকা ও জায়গা জমির কাগজপত্র লুট করে। এসময় তাদের ওপর নি’র্যাতন চা’লিয়ে টে’নেহিঁচড়ে পরিবার সদস্য ক’বির আহম’দসহ তাদে’রকে থা’নায় নিয়ে মা’রধর করে।

পরে তাদের ওই বা’ড়িতে নি’য়ে যাওয়া হয়। সেখানে নি’য়েও তা’দের ওপ’র নি’র্যাতন ক’রা হয়। ভু’ক্তভোগীদের ভা’ষ্যমতে ‘তাদের ছে’ড়ে দে’য়ার নামে নগদ দুই লাখ টাকা ঘু’ষ নেয় পু’লিশ অ’ফিসার না’জিম। তবে ১শ’ পিস করে ই’য়াবা দি’য়ে কা’রাগারে চা’লান দেয়। দেড় মাস কারাভোগ শে’ষে দুজন জা’মিনে বে’রিয়ে আস’লেও এখনো কা’রাভোগ ক’রছে পরিবারের আরেক সদস্য কবির।

কথিত ওই থা’নার পাশের বা’ড়ির বাসিন্দা শাহা’বুদ্দিন শাবু। তিনি থা’না যু’বলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাকেও ডে’কে নিয়ে আ’ট’ক করে এস’আই নিজাম উদ্দিন। তাকে পাশের বাড়ির ক’থিত থা’নায় না নি’লেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মূল থা’নায়। সেখানে থা’নার তি’ন ত’লায় তাকে দুইদিন আ’ট’কে রেখে টা’কা দা’বি করেন। পরে পাঁচ লাখ টাকা দি’লেও তাকে পাঁচ শ’ ইয়া’বা দিয়ে গ্রে’প্তার দেখানো হয়।

ওই থা’নার পাশের বাড়ির আব্দুল আমিন ৮ নং ইউনিয়নের ছা’ত্রলীগের সা’ধারণ সম্পাদক। টে’কনাফ বাজারের নিউমা’র্কেট এলাকায় তাদের পা’রিবারিক দো’কান থেকে তাকে আ’ট’ক করেন এসআই ফকরুল। পরে তার কাছে পাঁচ লা’খ টা’কা দা’বি করেন। পরে দুই লাখ টাকা দে’য়ার পরে তা’কেও পাঁচ শ’ ইয়াবা দি’য়ে গ্রে’প্তার দেখা’নো হয়।

অ’ভিযোগ রয়েছে, ক’থিত ওই থা’নার পু’লিশ টি’ম টেকনাফের প্রায় দুই হাজার দো’কানে ফুলের টব দে’য়ার নাম করে সাত শ’ টাকা করে চাঁ’দা নিয়েছিলো। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন শ’ টাকা করে ফুলের ট’ব সরবরাহ ক’রলেও বা’কি চার শ’ টাকা তা’রা লু’টপাট করেছে। এমন অ’নেক অ’ভিযোগ রয়েছে তাদের বি’রুদ্ধে। অ’ভিযোগ রয়েছে, টেকনাফ থা’নার ক’থিত ওই থা’নার সদস্যদের বলা হতো ‘ও’সির টিম’।

এই টিমে থা’নার কয়ে’কজন কর্মক’র্তাসহ পুরো থা’না এলা’কাজুড়ে অ’নেক সো’র্স জ’ড়িত রয়েছে। এই টি’মের স’দস্যরা ওই বা’ড়িটিকে দ’খল নি’য়ে অ’বৈধ কা’র্যক্রম চা’লাতো। এই টি’মের নে’তৃত্বে মূল থা’নার তিন ত’লায় ‘ট’র্চার সে’ল’ প’রিচালনার অ’ভিযোগও ক’রেছেন অনেক ভু’ক্তভোগী। তবে ওই বা’ড়িটিই ছিল তা’দের প্র’ধান ট’র্চার সেল। অ’ভিযোগ রয়েছে, এই টি’মের সদ’স্যরা কোনো অ’ভিযানে গেলে পু’লিশের কোনো গা’ড়ি ব্য’বহার করা হতো না।

ব্যবহার করা হতো সাদা ও কা’লো গ্লা’সের মা’ইক্রোবাস। এসব অ’ভিযানে আ’ট’ককৃতদের নিয়ে আসা হতো এই বা’ড়িটিতে এবং নিয়ে যা’ওয়া হতো মে’রিন ড্রাইভসহ বি’ভিন্ন পাহাড়ি এলাকায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এপিবিএন পু’লিশের একটি ক্যা’ম্পও ছিল এই বাড়িতে। বা’ড়িটির মা’লিক নূর মোহাম্ম’দের ছোট ভাই নাঈম ইস’লাম নূরু বলেন, এখানে পু’লিশের বিশেষ শাখা এপিবিএন সিটিজির একটি টি’মও থাকতো।

তিনি বলেন, টেকনাফ থা’নার পু’লিশ সদস্যরা থা’না থেকে এখানে রা’ন্না করে নি’য়ে আ’সতো। তার কথা’র সূত্র ধরে স’রজমিন এই ত’থ্যের প্র’মাণ মিলে। বা’ড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, এপিবিএন পু’লিশের প্র’তিদিনের কার্য’ক্রমের একটি রু’টিন টা’নানো আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সে’না কর্মক’র্তা মেজর সি’নহার মৃ’ত্যুর পরে রো’ববার সন্ধ্যায় টে’কনাফ থা’না পু’লিশ স’দস্যরা (ওসির টি’ম) ও এপিবিএন পু’লিশ টি’ম ত’ড়িঘড়ি করে বা’সাটি ছেড়ে দেয়। এখন পুরো বা’ড়িটি পরি’ত্যক্ত অ’বস্থায় রয়েছে। উৎসুক জ’নতা বা’ড়িটি দেখতে ভি’ড় জ’মাচ্ছেন। বিষয়টি জানতে

টে’কনাফ থা’নায় গে’লে থা’নার ওসি (অ’পারেশন) রাকি’বুল ইস’লাম খান বিষয়টি স্বী’কার করে বলেন, এটা ই’য়াবা ব্য’বসায়ীর বাড়ি। এটা আ’দালতে ক্রো’ক ক’রার নি’র্দেশ আছে। আম’রা এখানে কয়ে’কদিন ছিলাম। আর্ম’ড পু’লিশও ছি’ল, পরে বি’দ্যুতের লা’ইন কে’টে দেয়ার পরে আম’রা চ’লে আ’সি। টেকনাফ থা’নার সদ্য যোগ’দান করা ওসি মো. আবুল ফয়সল এই প্র’তিবেদককে বলেন বি’ষয়টি তিনি জানেন না। তবে এম’নটা হয়ে থা’কলে খুব খা’রাপ হয়েছে।সূত্রঃ পূর্বপশ্চিমবিডি