এক ঘটনায় ভাগ্য খুলে গেল সেই রিকশাচালকের

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২০ ১২:০১ অপরাহ্ণ

ভাগ্য খুলে গেল সেই রিকশাচালকের-ফজলুর রহমান। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা চালাতেন তিনি। বাবা-মা, বোন ও দুই ভাগ্নির সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ফজলুর। তাদরে মুখে দু’মুখো খাবার তুলে দিতে কিছুদিন আগে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে রিকশাটি কিনেন তিনি। এটিই ছিল একমাত্র সম্বল কিন্তু গত

সোমবার (৫ অক্টোবর) জিগাতলা এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদে অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এরই প্রেক্ষিতে ঘোষণা দিয়ে এ অভিযান চালাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। ফজলুর রহমান হয়তো সেই ঘোষণা জানতেন না বা জেনেও

অমান্য করেছেন। ফলে তার রিকশা তুলে নিয়ে যায় সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। একমাত্র সম্বলের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন ফজলুর। কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন, ‘গাড়ি তো লইয়া গেল। ৮০ আজার ট্যাহার কিস্তি কি কইরা দিমু? কি কইরা খামু…?’ ‘কি করমু, গলায় দড়ি দিমু।’ তাঁর কান্নার প্রধান কারণ ছিল সংকটকালের

অবলম্বনটি হারানো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক গণমাধ্যমের তোলা তাঁর কান্নার বেশকিছু ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ফজলুর রহমানের কান্নার ছবি চোখে পড়ে স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসিরের। তিনি সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলার পর গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সেই ফজলুরের সঙ্গে দেখা

করেন স্বপ্ন’র হেড অব মার্কেটিং তানিম করিম, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহ মো. রিজভী রনী এবং মিডিয়া-পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার কামরুজ্জামান মিলু। স্বপ্নের উদ্যোগে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি জানার পর ফজলুর রহমান রাজি হয়ে যান। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। কারণ তিনি এখন দুটি রিকশার মালিক। আরো

একটি রিকশা একজন তাঁকে সহযোগিতা করবেন বলেও ফজলুর জানান। রিকশাগুলো স্বপ্ন’র হোম ডেলিভারি সার্ভিসে কাজে লাগাতে চান ফজলুর রহমান, হতে চান একজন উদ্যেক্তা। সেইসঙ্গে স্বপ্ন’র অফার লেটারও হাতে তুলে নেন। এটি তাঁর হাতে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এক রেস্তোরাঁয় স্বপ্ন’র পক্ষ থেকে হাতে

তুলে দেন মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহ মো. রিজভী রনী। এভাবেই স্বপ্নের উদ্যোগে উদ্যোক্তা হচ্ছেন এবার রিকশাচালক ফজলুর রহমান। ফজলুর রহমান বলেন, আমার দেশের বাড়ি কুমিল্লা। একটা সময় সিনজির গ্যারেজে কাজ শিখতাম। তারপর টুকটাক করে টাকা জমিয়ে ধার করে রিকশাটা কিনেছিলাম। সেই রিকশা হারানোর

পর কী কষ্ট হচ্ছিল বোঝাতে পারবো না। কিন্তু আজ আমার খুব ভালো লাগছে। ভেতরের আনন্দটা এখন আর বোঝাতে পারব না। ভালো একজন উদ্যোক্তা হয়ে ব্যবসটা ভালোভাবে চালিয়ে যেতে চাই। স্বপ্নকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অবশেষে হাসি ফুটেছে সেই ফজলুর রহমানের মুখে। খুশিতে চকচক করছে দুঃখ ভরা সেই চোখ দুটি।bd24live