একাধিক বিয়ে ও বে’পরোয়া চলাফেরা সহ সাধনার সব কু’কর্মের বি’স্ফোরক তথ্য ফাঁ’স

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৯, ২০১৯ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

জামালপুরের ডিসির সঙ্গে অনৈ’তিক ভিডিও প্রকাশের পর টক অব দ্যা কান্ট্রি অফিস সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা। একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে তার অ’পকর্মের কথা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সাধনার বিষয়ে একের পর এক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসে। অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে হয় সাধনার। স্বামী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাদের সংসারে পূর্ণ নামের এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

বিয়ের আগে থেকেই সাধনা নানা অ’নৈ’তিক কাজে লি’প্ত ছিলেন বলে অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী। আর এই কারণে স্বামীর সঙ্গে তার বনিবনা ছিলনা। হঠাৎ করে ২০০৯ সালে স্বামী ফরহাদের আকস্মিক মৃ’ত্যু’ হয়। স্বামীর মৃ’ত্যু’র পর আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই সাধনা। প্রথম স্বামীর মৃ’ত্যু’র পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বেশিদিন সংসার করা হয়নি তার। কয়েক মাস যেতেই তালাক হয়ে যায় তাদের। এরপর কিছুদিন একা থাকার পর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে প্রে’মের সম্পর্ক করে তৃতীয় বিয়ে করেন। এই বিয়েও টিকল না।

এরপর সাধনা ২০১৮ সালে উন্নয়ন মেলায় হস্ত’শি’ল্পের স্টল বরাদ্ধ নেয়ার জন্য ডিসি আহমেদ কবিরের সঙ্গে দেখা করেন। তার রূপে মুগ্ধ হয়ে বিনামূল্যে স্টল বরাদ্দ দেন ডিসি। উন্নয়ন মেলা চলাকালীন তাদের মধ্যে অ’নৈতিক স’ম্পর্ক গড়ে উঠে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসী বলেন, সাধনার বিরুদ্ধে অনেক অনৈ’তিক কাজের অভিযোগ আছে এলাকায়। এলাকার মানুষ তার এই অ’পকর্মের জন্য অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। এরপর ডিসির সঙ্গে অ’নৈ’তিক ভিডিও প্রকাশের পরে সারাদেশে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, সাধনাকে অনেক দিন ধরেই দেখছি। উল্টা-পাল্টা চলাফেরা করে সে। বিভিন্ন সময় এলাকার বখাটে ছেলেদের সঙ্গে মিশে। বাবা-মায়ের সঙ্গে এই এলাকায় থাকে। শুনেছি সে নাকি পালিত মেয়ে।

মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী চেয়ার’ম্যান মোজাম্মেল হক ভোগলা বলেন, যতটুকু জানি, ১৯৯০ সালের বন্যার সময় খাইরুল ইসলাম নামের এক লোক এই মেয়েকে নিয়ে শুকনগরী গ্রামে আসেন এবং বেশ কয়েক বছর বসবাস করেন। খাইরুলের সংসারে কোনো সন্তান জন্ম না নেয়ায় এই মেয়েকে কারো কাছ থেকে দত্ত’ক নেয়। মেয়েটার বিয়ে হয়েছিল। স্বামী মা’রা’ গেছে। একটি সন্তানও আছে তার।

মাদারগঞ্জ থানার ওসি বলেন, জেনেছি সাধনা তার বাবার পা’লিত মেয়ে। তারা এখন জামালপুর শহরে বসবাস করছেন। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে কোন আদেশ নির্দেশ আসেনি। সে ক্ষেত্রে এর বেশি কিছু জানা হয়নি। নাম প্রকাশে অ’নিচ্ছুক শুকনগরী গ্রামে এক বাসিন্দা বলেন, ৭ বছর আগে সাধনার স্বামী মা’রা যান। তাদের একমাত্র সন্তান ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। সে এখন তার খা’লার বাড়িতে আছেন। অনেক ছেলে মানুষের সঙ্গে স’ম্পর্ক করে। এই কারণে আমাদের গ্রাম থেকে চলে গেছে অনেক আগেই। এখন শহরে তো আর কেউ কিছু বলতে পারবে না।

সূত্রে জানা গেছে, ছায়া ডিসি সাধনার হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন একাধিক উ’র্ধ্ব’তন কর্মকর্তা। ডিসির প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্নি দপ্তরে বদলি, নিয়োগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত কাজে সাধনাকে ম্যানেজ করতো সুবিধাভোগীরা। সবার মাঝেই ছায়া ডিসি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন এই প্রভাব’শালী পিয়ন।

অফিসের কামরার দরজায় বসানো হয়েছিল লাল ও সবুজ বাতি। রঙ্গলীলা চলাকালে লালবাতি জ্ব’লে উঠতো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো বিশ্বস্ত পিয়ন। এই সময় সবার জন্য প্রবেশাধিকারে নিষে’ধাজ্ঞা ছিল। লীলা শেষে পরিপাটি হয়ে যখন চেয়ারে বসতো তখন জ্বলে উঠতো সবুজ বাতি। সবুজ বাতি জ্বলে উঠার পরেই শুরু হতো দাফতরিক কার্যক্রম।

সাধনা অফিস সহায়ক পদে যোগদান করার পর ডিসির অফিস রুমের পাশে খাস কামরাটিতে মিনি বেড রুমে রূপান্তর করতে খাট ও অন্যান্য আসবাবপত্রসহ সাজ্জসজ্জা করেন। সেই রুমেই চলতো তাদের রঙ্গ’লী’লা।colorslife24