এই ৫টি ফলের খোসা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

শুক্রবার, আগস্ট ৩০, ২০১৯ ৫:২৮ অপরাহ্ণ

ফলের খোসা ছাড়িয়ে ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু এই খোসাতেও কিন্তু অনেক উপকারী জৈব রাসায়নিক থাকে। যার মধ্যে বেশ কিছু ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে কমলা লেবু, লেবু, আপেল, কলা, এবং আমের খোসা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী-

১.কমলা লেবু : কমলার খোসায় রয়েছে অসাধারন পুষ্টিগুণ। মুখের দূর্গন্ধ দূর করতে অনায়েসেই ব্যবহার করতে পারেন কমলা লেবুর খোসা। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে বা দিনের যেকোনো সময়ে কমলার খোসা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে আপনার মাড়িও ভালো থাকবে আর মুখের দূর্গন্ধও অনেকটা দূর হয়ে যাবে।

সেই সঙ্গে কমলার খোসা চিবিয়ে খেলে দাঁত অনেক সাদা ও ঝকঝকে হয়ে যাবে। সবচেয়ে ভালো ও প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের কালো ও হলদে ভাব দূর করতে পারে কমলার খোসা। শুধু কমলার খোসার ভেতরের দিকে একটু পানি ছিটিয়ে দিয়ে দাঁত ঘষে নিতে হবে। আপনি চাইলে কমলার কাঁচা খোসা বেটে পেস্টের মতোও ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ত্বকের ক্ষেত্রে কমলা লেবুর রস খুবই উপকারি।

২.লেবু : লেবু খেলে যতটা শারীরিক উপকার পাওয়া যায়, তার থেকে অনেক বেশি পাওয়া যায় লেবুর খোসাটা খেলে। আসলে বেশ কিছু পরীক্ষার পর এ কথা পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে লেবুতে যে পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে, তার থেকে প্রায় ৫-১০ গুণ বেশি রয়েছে লেবুর খোসায়। সেই সঙ্গে মজুত রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, ফলেট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। এছাড়া-

.রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে

.কিডনি স্টোনের মতো রোগ দূরে থাকে

.কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমে

.ক্যানসারের মতো মরণ রোগ দূরে পালায়

.মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে

.সারা শরীরে রক্তের প্রবাহে উন্নতি ঘটে

.দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে

.হার্টের ক্ষমতা বাড়ে

.লিভারে ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

.হাড় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে

.ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়

.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

.স্ট্রেসের মাত্রা কমে।

৩.আপেল : আপেলের খোসায় আছে পর্যাপ্ত ফাইবার । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) মতে, আপেলের বেশিরভাগ ফাইবার থাকে এর খোসাতে। ফাইবার দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, এবং খাবারের প্রতি লোভ কমায়। এছাড়াও ফাইবার হাড়, যকৃত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ফাইবার হজম বাড়ানোর জন্য ভাল এবং ডায়াবেটিকসের জন্য উপকারী। ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আপেলের খোসার ফাইবার দীর্ঘ সময়ের জন্য আপনার পেট ভর্তি রাখতে সাহায্য করে এবং আরও বেশি খাবার খাওয়া থেকে আটকায়। ফলে কম ক্যালোরি খাওয়া হয় আর ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। আপেলের খোসায় আছে অত্যাবশ্যক ভিটামিন। ভিটামিন এ, সি এবং কে রয়েছে আপেলের খোসাতে। তাছাড়া এতে পটাসিয়াম, ফসফরাস এবং ক্যালসিয়ামের মতো অপরিহার্য খনিজ রয়েছে যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই পুষ্টি সব আপনার হৃদয়, মস্তিষ্ক, স্নায়ু, ত্বক এবং হাড় রক্ষা করতে সাহায্য করে।

৪.কলা : কলার খোসারও নানা গুণাবলি রয়েছে। গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে শরীরচর্চা— এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। কাঁচা কলার খোসা ফেলে না দিয়ে কুচিয়ে ভাপিয়ে নিন। সঙ্গে অল্প কালো জিরে, গোল মরিচ গুঁড়ো, পিঁয়াজ, রসুন ও তেল দিয়ে রান্না করে ফেলুন চমৎকার ভর্তা। এর সঙ্গে কুচো মাছ বা ছোট চিংড়িও যোগ করতে পারেন। জুতোর জেদি দাগ তুলতেও কলার খোসাকে ব্যবহার করা যায়।

পাকা কলার খোসার ভিতরের অংশ জুতোর উপরে ঘষুন কিছু ক্ষণ। তার পর পাতলা কাপড় দিয়ে মুছে নিন জুতো। জুতো সহজেই চকচকে হবে।দাঁতের হলুদ ভাব কাটাতেও কলার খোসা কাজে লাগে। প্রতি দিন সকালে মুখ ধুয়ে কলার খোসার ভিতরের অংশ দাঁতে ঘষুন কিছু ক্ষণের জন্য।

এরপর নিয়মিত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজুন। এই উপায়ে সপ্তাহ খানেকেই দাঁত হয়ে উঠবে ঝকঝকে সাদা। ত্বকের যত্নে এই খোসা অত্যন্ত উপযোগী। কলার খোসা বেটে তার সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে মুখে ঘষুন। মুখের কালো দাগ বা বলিরেখা দূর হবে সহজে। ত্বককে মসৃণ করতেও কলার খোসা অত্যন্ত দরকারি। শুষ্ক ত্বকে কলার খোসার ভিতরের অংশ লাগিয়ে রাখুন। কিছু ক্ষণ পর শুকিয়ে এলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বক মোলায়েম হবে।

৫.আম : ক্যানসার নিয়ে কে না চিন্তিত? আপনি যদি ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে চান, আমের খোসা খেতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর উপাদানগুলো ক্যানসার প্রতিরোধ করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমের খোসার উপাদান রক্তের সুগার ও কোলেস্টেরল কমাতে কাজ করে।

আমের খোসা আর্থ্রাইটিস, আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমায়। এর মধ্যে আছে প্রদাহরোধী উপাদান। এটি শরীরের প্রদাহ প্রতিরোধে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-এ। এটি দৃষ্টিশক্তির জন্য ভালো; চোখের মণিকে সুরক্ষিত রাখে। আপনি কি ত্বককে সব সময় তারুণ্যদীপ্ত রাখতে চান? ত্বকের বলিরেখা দূর করতে খেতে পারেন আমের খোসা। আমের খোসার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-সি। এটি ত্বক ভালো রাখে।