উনি আমার প্রেমিকা ! আমার স্ত্রী নন : ছাত্রলীগ সভাপতি

বুধবার, মে ১৫, ২০১৯ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সারা বাংলাদেশ এখন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ঘিরে আলোচনামুখর। সোমবার (১৩ মে) ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে পদবঞ্চিতদের বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, যার রেশ পড়ে গণমাধ্যমেও।

সবচেয়ে যে বিষয়টি নিয়ে বেশী বিতর্কের সৃষ্টি হয় সেটি হলো ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জারিন দিয়ার ফেসবুক স্টাটাস। নতুন এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কোনও পদ পাননি তিনি। এর আগে তিনি গণিত বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে বিবাহিত দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার মত ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিত কয়েকজন স্ট্যাটাস দেয়। শোভনের সাথে একজন মেয়ের একটি ছবিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। ফেসবুকে সেই ছবি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ছাত্রলীগ সভাপতি বিবাহিত এবং মেয়েটি ছাত্রলীগ সভাপতির স্ত্রী।

অবশেষে এই ছবির ব্যাপারে মুখ খুলেছেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে তার সাথে মুঠোফোনে ছবিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছবিটিতে আমার পাশে যে মেয়েকে দেখা যাচ্ছে উনি আমার প্রেমিকা, আমার স্ত্রী নন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ছাত্রলীগ করলে কি প্রেম করা যাবে না? ছাত্রলীগ করলে তো প্রেম করা নিষেধ নাই!

ছাত্রলীগ সভাপতি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রেমিকার ছবিকে স্ত্রীর ছবি হিসেবে প্রচার করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

এর আগে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে জারিন দিয়া লিখেন ‘রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ভাই, আপনারা যেসব মেয়েদের কমিটিতে রেখেছেন, তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে? নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন। অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে। এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না, মানবো না। আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।’

প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি হন মো. রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পরিবারের সন্তান শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র। তিনি আইন বিভাগ থেকে সদ্য মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। সদ্য বিদায়ী ছাত্রলীগের কমিটির কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন।

সদা হাস্যোজ্জ্বল শোভনের দাদা মরহুম শামসুল হক চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক (৬নং সেক্টর এর প্রচার বিভাগের চেয়ারম্যান), কুড়িগ্রাম-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ১৯৭৩ ও ১৯৭৯। ১৯৭৫ পরবর্তী ১৯৭৭ সালে দেশ ও দলের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে জাতীয় নির্বাচন করেন।

ডাকসুর ভিপি পদে হেরেও বিজয়ী নুরুল হক নুরকে বুকে টেনে নেয়া সজ্জন ছাত্রনেতা শোভনের বাবা, যিনি ১৯৮১ সালে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ এর সভাপতি ও ১৯৯১ সালে থানা যুবলীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে থানা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক (২০০১-২০১০) ও ২০১১ সালে পুনঃরায় থানা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক (২০১১-অদ্যাবদি)। এর পাশাপাশি তিনি নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। এমন পরিবার থেকে উঠে আসা ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ পদ একজন সভাপতির বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচারে যারপরনাই বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগের লাখো নেতা-কর্মী।