আপিলে মিন্নির পক্ষে যে ২১ যুক্তি ‍উপস্থাপন করা হয়েছে! এক নজরে দেখেনিন

বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২০ ১২:২৯ অপরাহ্ণ

যে ২১ যুক্তি ‍উপস্থাপন করা হয়েছে-ব’রগুনার বহুল আ’লোচিত রি’ফাত শরীফ হ’ত্যা মাম’লায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মি’ন্নির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড বা’তিল চেয়ে হা’ইকোর্টে আবেদন করেছে মিন্নির আইনজীবি মা’ক্কিয়া ফা’তেমা ইসলাম। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মি’ন্নির পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করা হয়।

‘মি’ন্নি খা’লাস পেতে পারেন’ এমন যুক্তি দেখিয়েছেন আইনজীবী মা’ক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম ওই আবেদনে মি’ন্নির দ’ণ্ড বাতিল ও খা’লাস চাওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সে (মিন্নি) তার স্বামী রি’ফা’তকে দু’র্বৃত্ত’দের হা’ম’লা থেকে বারবার প্রা’ণপ’ণে বাঁ’চানোর চে’ষ্টা করেছেন। কিন্তু আ’দালত রা’য়ে-

মি’ন্নি রি’ফাতকে বাঁ’চানোর চে’ষ্টা করেনি বলা হয়েছে। অথচ এসব স্পষ্ট হওয়া স’ত্ত্বেও আ’দালত আ’বেগপ্রবণ হয়ে মি’ন্নিকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়ে রা’য় ঘোষণা করেছেন। তাই এ রা’য় বা’তিলযোগ্য’। হা’ইকোর্টে করা মি’ন্নির আ’বেদনে বি’চারিক আ’দালতের রা’য়টি ‘অনুমান নির্ভর ও বাতিলযোগ্য’ বলে উল্লেখ করা

হয়েছে। এমনকি মা’মলার বিচার ও সা’জাপ্র’দানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলাসহ ২১টি যুক্তি দিয়ে মিন্নির খা’লাস চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আইনজীবী মা’ক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘এই মামলায় আজ আপিল আবেদন করেছি। আবেদনটি মোট ৪৫১ পৃষ্ঠার। আবেদনে বিচারিক আদালতের রায়ের অস’ঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছি। এছাড়াও মা’ম’লা খা’লাসের পক্ষে সর্বমোট ২১টি যুক্তি উপস্থাপন করেছি।’মিন্নির খা’লাস চেয়ে করা আপিলের যুক্তিগুলো হলো-

>> গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব’রগুনার দায়রা আদালতে যে রা’য় ঘোষণা করা হয়েছে তা আইন, ঘটনা এবং পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় একটি খা’রাপ নজির তৈরি করেছে।

>> প্রাথমিকভাবে আপিলকারী (মিন্নি) এই মামলায় সাক্ষী ছিল। পরে তাকে মা’ম’লার আ’সামি করা হয়েছে। তাকে ৫ দিন পু’লিশ রি’মা’ন্ডে রাখা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালত রি’মা’ন্ডের মধ্যবর্তী সময়ে ‘ফি’ল্মি স্টাইলে’ আইনবহির্ভুতভাবে তার স্বী’কারো’ক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি রেকর্ড করে। যার কারণে ওই রা’য়টি বাতিলযোগ্য।

>> মা’মলার চার্জশিটে ৭৫ জন সাক্ষী রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭, ১৩, ১৪ এবং ১৭ নম্বর সাক্ষী নিজেদের চা’ক্ষুষ সাক্ষী দাবি করা সত্ত্বেও তাদের তথ্য-প্রমাণ ছিল প’ক্ষপাতদুষ্ট। তাই ওই রা’য়টি বাতিলযোগ্য।

>> মি’ন্নি এ মাম’লার গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা তাকে অ’পরাধী হিসেবে সা’জা প্রদান করে রা’য় ঘোষণা করায় তা বা’তিলযোগ্য।

>> মা’মলার তদ’ন্তকারী কর্মকর্তা অ’স্ব’চ্ছতার সঙ্গে এ মা’মলার ত’দন্ত করেন এবং কো’নোরকম আইনি ভিত্তি ছাড়া মা’মলার চা’র্জশিট দাখিল করেন, যা মোটেই নির্ভরযোগ্য নয়।

>> মি’ন্নির বিরু’দ্ধে আনী’ত অ’ভিযোগ আমলে না নিয়েই ব’রগুনার দায়রা জজ আ’দালত তার বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ গঠন করেন। এখানে ফৌ’জদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। যা তাকে চর’মভাবে ক্ষ’তিগ্র’স্ত করেছে।

>> আইনের সঠিক অনুসরণের অ’ভাবে এ মা’মলায় মিন্নি নিজেকে র’ক্ষায় উ’পযুক্ত সুযোগ পায়নি।

>> মা’মলা দা’য়েরের সময় বাদী (রি’ফাতের বাবা) জানান, ঘ’টনাস্থল থেকে মি’ন্নি রি’ফাতকে ব’রগুনা জে’নারেল হাসপাতালে রিকশাযোগে এনে ভর্তি করেন এবং মি’ন্নিকে একমাত্র সাক্ষী করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে মা’ম’লার ত’দন্ত শেষে মি’ন্নিকে আ’সামি করে দ’ণ্ড দেয়া হয়, এতে করে মি’ন্নি পরিস্থিতির শি’কা’র হয়েছেন।

>> আ’দালত (বর’গুনার) সন্দেহপূর্ণ, মৌখিক সাক্ষ্য এবং ধারণানির্ভর অন্যান্য পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় এ রায় দিয়েছেন, যা বা’তিলযোগ্য।

>> ওই ঘট’নায় ক্লো’জ সা’র্কিট (সিসি) ক্যামেরার তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট দেখা গেছে যে, সে বারবার তার স্বামী রি’ফাতকে আ’ক্রম’ণকারীদের হাত থেকে বাঁচা’নোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আ’দালত তার রা’য়ে মি’ন্নি রিফা’তকে বাঁচা’নোর চেষ্টা করেনি বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ এসব স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আ’দালত আ’বেগপ্রবণ হয়ে মিন্নিকে সা’জাপ্রদানের রা’য় ঘোষণা করেছেন। তাই এ রা’য় বাতিলযোগ্য।

>> মিন্নিকে সা’জাপ্রদা’নের ঘ’টনা অনুমান ও ধা’রণানির্ভর। এ মাম’লায় সা’ক্ষীদের জে’রাও বিবেচনা করা হয়নি। ফলে মিন্নিকে অপ’রাধী সাব্যস্ত করে সাজা সং’ক্রা’ন্ত আদালতের রায়টি ভুল সিদ্ধান্ত।

>> মি’ন্নি’র বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা স’ন্দেহাতীতভাবে অ’ভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি।

>> যেকোনো দৃ’ষ্টিকোণ থেকে বিচারিক আদালতের পক্ষ থেকে মি’ন্নিকে সাজাপ্রদানের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য না হওয়ায় এ রায় বাতিলযোগ্য।

>> আপিলকারীকে প্রহসনমূলক ও অ’যৌক্তিকভাবে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

>> রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা রাষ্ট্রপক্ষের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই মামলায় অতিরঞ্জিত করেছেন।

>> আপিলকারীকে দো’ষী সা’ব্যস্ত করা ব্যতীত বিচারক এই মামলায় অন্য আর কিছুই বিবেচনা করেননি।

>> দ’ণ্ডবি’ধি আইনের ৩০২ ধারা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় আপিলকারী এ মা’মলায় খা’লাস পাবেন।

>> সময়ে সময়ে এ মা’মলার যুক্ত হওয়া সাক্ষীদের ওপর নির্ভর করে সাজা দেয়া হয়েছে, কিন্তু সেসব সা’ক্ষীরা বি’শ্বাসযোগ্য ছিল না।

>> পু’লিশ বা ম্যা’জিস্ট্রেটের কাছে সাক্ষীরা বিভিন্ন বক্তব্য দেয়ায় সেসব সাক্ষীরা মোটেও নির্ভরযোগ্য ছিল না।

>> অগ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করে এ মা’ম’লার বি’চারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে।

>> যেকোনো দৃষ্টি’কোণ থেকে এ মা’মলার ঘ’টনা, পা’রিপার্শ্বিকতা, তথ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) সন্দেহাতীতভাবে মা’মলার অ’ভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ মাম’লায় মি’ন্নি খালাস পাওয়ার যোগ্য।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর আলোচিত এই মা’মলার রায় ঘোষণা করেন বর’গুনার জেলা ও দায়রা জজ আ’দালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে মি’ন্নিসহ ৬ আ’সামির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড ও চারজনকে খা’লাস দেয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) খা’লাস চেয়ে মিন্নির হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেন।